জাল লটারি কাণ্ডে বড়ো সাফল্য, নিতুড়িয়ায় গ্রেপ্তার ২
বর্তমান | ১৬ জুন ২০২৬
সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রবিবার রাতে নিতুড়িয়া থানার পুলিশ জাল লটারি কাণ্ডে বড়ো সাফল্য পেয়েছে। ওইদিন রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশের তরফে বিভিন্ন থানা এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। তাতেই সফলতা আসে। জাল লটারি সহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা হল শক্তি যাদব ও গণেশ সাউ। ধৃতদের মধ্যে শক্তির বাড়ি নিতুড়িয়ার আমডাঙা গ্রামে এবং গণেশের বাড়ি রানিপুর গ্রামে। ধৃত শক্তিকে নিয়ে তার বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। তার বাড়ি থেকে জাল লটারি কারবারে ব্যবহৃত নগদ ১০ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নিতুড়িয়া এলাকায় বসে তারা দীর্ঘদিন ধরে কারবার চালাচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। ধৃতদের সোমবার রঘুনাথপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক দু’জনকে পাঁচদিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। ঘটনায় আন্তঃরাজ্য জালিয়াতি চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে এক ধরনের লটারি খেলা হয়। সেই একই আদলের লটারি বাজারে বিক্রি হয়। তবে এর জন্য সরকারকে কোনো ট্যাক্স দেওয়া হয় না। রাজ্যে যে লটারি খেলা হয়, তার রেজাল্ট ধরেই ওই লটারিতে প্রাইজ দেওয়া হয়। এভাবে প্রতিদিন প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছিল। এতে ঝাড়খণ্ডের একটি চক্র জড়িত ছিল বলে পুলিশের কাছে খবর আসে। প্রায় এক বছর আগে নিতুড়িয়া থানার পুলিশ এলাকায় অভিযান চালিয়েছিল। তখন দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের মুখ থেকে শক্তির নাম উঠে এসেছিল। পুলিশ তার খোঁজে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওইদিন রাতে রানিপুর, আমডাঙা ও পারবেলিয়া বাজারে একযোগে অভিযান চালানো হয়। তাতেই সফলতা আসে। পুলিশের অনুমান, জাল লটারিতে এলাকায় কোটি-কোটি টাকার কারবার হয়েছে। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে পুলিশ ধৃতদের হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে ঝাড়খণ্ড থেকে ছাপানো লটারি এনে এজেন্ট মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় লটারি পাঠানো হত। সম্ভবত বর্তমানে তারা একটি চক্র তৈরি করে এলাকাতেই মেশিন বসিয়ে লটারি ছাপানোর কাজ শুরু করেছিল। তবে সেই কারখানা কোথায় রয়েছে, তার কোনো
তথ্য এখনো সামনে আসেনি। পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু