• সারের কালোবাজারি করলে লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি
    বর্তমান | ১৬ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সারের কালোবাজারি করলে বা দাম বেশি নিলে লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি দিলেন কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। সোমবার ময়ূরেশ্বর-২ ব্লকের কোটাসুর স্কুল মাঠে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ডিলারদের স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে, কোথাও সারের কালোবাজারি হলে বা সরকারিভাবে নির্ধারিত দামের চেয়ে এক টাকাও বেশি নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হবে। সারের কালোবাজারি রুখতে কৃষিমন্ত্রীর এই কঠোর পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন সাধারণ চাষিরা। 

    সরকারি স্তরে কড়া হুঁশিয়ারি এবং নজরদারি থাকা সত্ত্বেও সারের কালোবাজারি ও কৃত্রিম সংকটের সমস্যা প্রায়শই সামনে আসে। বিশেষ করে চাষের মরশুমে যেমন আমন ধান রোপণ বা আলু চাষের সময় সারের চাহিদা তুঙ্গে থাকে। তখন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। গোডাউনে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকা সত্ত্বেও দোকানে ‘সার নেই’ বলে বোর্ড ঝুলিয়ে দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়। এর ফলে চাষিদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। চড়া দামে সেই সারই পিছনের দরজা দিয়ে বিক্রি করা হয়। এমনকি, সার কিনতে অণুখাদ্য কিনতে বাধ্য করা হয়। রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন সরকার শুরু থেকেই এবিষয়ে কড়া মনোভাব দেখাচ্ছে।

    এদিন কৃষিমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়েছেন, সারের কালোবাজারি করলে বা দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হবে। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হলেও পাকা বিল বা রসিদ দেওয়া হয় না। দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, এই বেআইনি কারবার পুরোপুরি বন্ধ করতে প্রশাসনের পাশাপাশি কৃষকদেরও কিছু বিষয়ে সচেতন হওয়া দরকার। সার কেনার পর দোকানদারের থেকে অবশ্যই পাকা বিল দাবি করতে হবে। সেখানে সারের ওজন এবং দাম স্পষ্ট লেখা থাকে। দোকানে সরকারি দামের তালিকা টাঙানো আছে কিনা তা খেয়াল রাখতে হবে। কোনো ডিলার বা খুচরো বিক্রেতা অতিরিক্ত দাম চাইলে বা সার দিতে অস্বীকার করলে কৃষি দপ্তরের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)