• অভিষেকের আপ্ত সহায়কের নামে জারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
    বর্তমান | ১৬ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারি জমি দখল, তারপর জাল নথি বানিয়ে বিক্রি। এই মামলায় এখন পুলিশের নজরে পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন ছয় তৃণমূল বিধায়ক। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রাক্তন বিধায়ক তথা জেলা সভাপতি সুজয় হাজরার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তাঁরাও জমি দুর্নীতি চালিয়েছেন। পুলিশের দাবি, সরকারি জমি ভুয়ো মালিকানা দেখিয়ে বিক্রি করে যে টাকা এসেছে, তার ভাগ পেয়েছেন তাঁরাও। আর বাকিটা গিয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের কাছে। তাঁর খোঁজ অবশ্য সোমবারও মেলেনি। তাই সুমিতের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন আদালতে জানিয়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। মেদিনীপুর কোর্ট সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। এরই মধ্যে যদিও আগাম জামিন চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সুমিতের আইনজীবী। চলতি সপ্তাহেই সেই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

    ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে সরকারি জমি দখলের মামলার তদন্তে আধিকারিকরা জানতে পারছেন, বেহাত হয়েছে অন্তত ৬০০ একর। একাধিক হাত ঘুরিয়ে সেই জমি বিক্রি হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকায়। মাঝে এত ভুয়ো মালিক কেন? লক্ষ্য ছিল একটাই—ভবিষ্যতে তদন্ত হলেও যাতে পুলিশ কোনো ট্রেইল না পায়। সুজয়বাবু জেরায় একথাই পুলিশকে জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রাক্তন বিধায়করাও এই জমি দখলে পুরোপুরি মদত দিয়েছেন। সাহায্য করেছেন জাল নথি তৈরিতে। বিএলএলআরও অফিসে নির্দেশ গিয়েছে রেকর্ড পরিবর্তনের জন্য। এমনকি জাল নথি বের করার পর  প্রাক্তন বিধায়করা বহুতল নির্মাণকারী সংস্থা, পানশালা ও হোটেল মালিকদের ‘জমি দখলে’র উদ্দেশ্যে কাছে টেনেছেন বলে পুলিশের দাবি। এর বিনিময়ে প্রাক্তন বিধায়করা পেয়েছেন বিপুল পরিমাণ টাকা। তদন্তে পুলিশ জেনেছে, জমির ভুয়ো নথির জন্য জাল আধার তৈরি হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরেই। তৃণমূলের বিভিন্ন পার্টি অফিসে। ভিন রাজ্যের মানুষের নাম ও ভোটার কার্ডের তথ্য ব্যবহার হয়েছে। একইসঙ্গে রেজিস্ট্রি অফিস থেকেও নথি সংগ্রহ করে সেগুলি দিয়ে জাল ভোটার তৈরি করেছে সিন্ডিকেটের মাথারা। মূলত এমন ভোটার কার্ড বেছে নেওয়া হয়েছে, যার মালিক হয় মৃত, কিংবা যাদের অস্তিত্ব নেই। সেই নামে রেজিস্ট্রি হয়েছে জমির। একাধিকবার জমির হাতবদল দেখিয়ে দলিল তৈরি করেছে সুজয় হাজরার সিন্ডিকেট। পুলিশের দাবি, তারপর সেই জমি বিক্রির টাকার ভাগই গিয়েছে সুমিত রায়ের কাছে।
  • Link to this news (বর্তমান)