৭০ ভরি সোনার গয়না চুরি, বিক্রি করতে গিয়ে পাকড়াও পরিচারক
বর্তমান | ১৬ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নাকতলা এলাকার রাজবাড়ি থেকে ৭০ ভরি সোনার অলংকার চুরি করেছিল সে। কিন্তু এত গয়না রাখবে কোথায়? পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কা থাকায় গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন সোনার দোকানে তা বিক্রি করতে গিয়েছিল অভিযুক্ত পরিচারক দীনেশ সোরেন। উদ্দেশ্য ছিল, গয়নাগুলি বেচে টাকা নিয়ে পালাবে। সোনার গয়না নিয়ে বেশ কয়েকটি দোকান ঘোরাঘুরি করলে কয়েকজন দোকানির সন্দেহ হয়। তাঁরাই খবর দেন থানায়। নেতাজিনগর থানার পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করলে বেরিয়ে আসে আসল কাহিনি। বাজেয়াপ্ত করা হয় সব অলংকার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা দীনেশ অনেকদিন ধরেই নাকতলায় ওই রাজবাড়িতে কাজ করত। ফলে কোন আলমারিতে সোনার গয়না রাখা আছে, তা সে জানত। ওই আলমারির চাবি কোথায় থাকত, তাও অজানা ছিল না তার। দীনেশের পরিকল্পনা ছিল, সোনার অলংকার হাতিয়ে ঝাড়খণ্ডে পালানোর। সেখানেই সেগুলি বিক্রির ফন্দি করেছিল সে। পরিকল্পনা মতো একটু একটু করে গয়না সরাতে শুরু করে দীনেশ। এভাবে প্রায় ৭০ ভরি গয়না হাতানোর পর ১৪ জুন বিকালে রাজবাড়ি ছাড়ে সে। কিন্তু এত পরিমাণ সোনার গয়না নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় বা ট্রেনে পুলিশ চেকিং করলে ধরা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এই শহরেই সেগুলি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। তাই গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় স্বর্ণঋণদানকারী সংস্থায় গিয়ে সোনা বন্ধক রেখে টাকা ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু গয়নার নথি না থাকায় তারা তা নিতে চায়নি। এরপর সোনার গয়নাগুলি বিক্রির জন্য বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানে যায়। কিন্তু এত সোনার গয়না দেখে সন্দেহ হয় তাঁদের। শেষমেশ কেউই ওই গয়না কিনতে রাজি হয়নি। স্থানীয় এক দোকানদার তাকে জিজ্ঞাসা করেন, এত সোনার গয়না সে কোথায় পেয়েছে? দীনেশ বলে, পারিবারিক সূত্রে সে এই অলংকার পেয়েছে। এখন টাকার দরকার, তাই সে এই গয়না বিক্রি করতে এসেছে। তার কথা শুনে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়। নেতাজিনগর থানার পুলিশ এসে সোনার ব্যাগ সহ ওই যুবককে পাকড়াও করে। জেরায় পুলিশকে সে জানায়, রাজবাড়ির সোনা চুরি করেছে সে। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার তাকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে অভিযুক্তের আইনজীবী সৈকত রক্ষিত বলেন, এগুলি যে চুরির গয়না, তার কোনো প্রমাণ নেই। সরকারি আইনজীবী সাজ্জাদ আলি বলেন, নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে ধরা হয়েছে। সওয়াল শেষে তাকে পুলিশি হেপাজতে পাঠানো হয়।