• পুনর্বিন্যাস করেই পুরভোট, ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতার বোর্ড গঠন: শুভেন্দু
    বর্তমান | ১৬ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোনো ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা ৮৫ হাজার তো কোনো ওয়ার্ডে মাত্র ১৪ হাজার। কোনো ওয়ার্ডে বুথের সংখ্যা ১৫ তো কোথাও সংখ্যাটা প্রায় ৫০। অর্থাৎ, কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডে ভোটার বা বুথ সংখ্যায় রয়েছে ব্যাপক অসামঞ্জস্য। তাই বেশ কিছুদিন ধরে চর্চা চলছিল, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন করেই হবে আগামী পুরভোট। রাজ্যের নবনির্বাচিত সরকারও ডিলিমিটেশনের পর পুরভোট করার পক্ষপাতী। সোমবার কলকাতা পুরসভায় এক অনুষ্ঠানে এসে সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, আসন পুনর্বিন্যাসের পর ভোট করে আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতায় নতুন পুরবোর্ড গঠন হয়ে যাবে। তাঁর এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, কলকাতার পর রাজ্যের বাকি পুরসভাগুলিতেও আসন পুনর্বিন্যাস করেই ভোট করাবে রাজ্য। 

    গত ৮ জুন কলকাতার নির্বাচিত পুরবোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসিয়েছে রাজ্য। নিয়ম অনুযায়ী আগামী ছ’মাসের মধ্যে নতুন পুরবোর্ড তৈরি করতে হবে। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আইন মেনে চলতে চাই। তাই মেয়র ইস্তফা দেওয়ার পর বিগত বোর্ডকে নিয়ম মেনে ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা মেয়র নির্বাচন করতে পারেনি। তাদের সেই ব্যর্থতার জন্যই প্রশাসক বসাতে হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে নতুন বোর্ড দায়িত্ব নেবে।’ এরপরই তিনি জানিয়ে দেন, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করেই ভোট হবে। এই কাজ করবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তারাই রাজ্য সরকারকে এর জন্য প্রস্তাব দেবে। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের একাধিক ওয়ার্ডে জনসংখ্যার অসামঞ্জস্যের উদাহরণ তুলে ধরেন। 

    শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যার ফারাকটা কেমন? ই এম বাইপাস সংলগ্ন ধাপা-মাঠপুকুর সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৫৮ নম্বর ওয়ার্ড। এসআইআরের পরও এই ওয়ার্ডে রয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার ভোটার। তিলজলা-তপসিয়া অঞ্চলের ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা ৮৫ হাজারের বেশি। মুকুন্দপুর, নয়াবাদ সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ে তৈরি ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৪৫ হাজার ভোটার রয়েছে। আয়তনের নিরিখেও ১০৯ নম্বর ওয়ার্ড কলকাতায় সবথেকে বড়ো। ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের আয়তনও বিশাল। সেই জায়গায় উত্তর কলকাতার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকা অনেক কম। আয়তন ও জনসংখ্যার নিরিখে বড়বাজার অঞ্চলের ২২ নম্বর ওয়ার্ড কলকাতায় সব থেকে ছোটো। ভোটার সংখ্যার নিরিখে ভবানীপুর বিধানসভার অন্তর্গত সব থেকে বড়ো ওয়ার্ড হল ৭৭। সেখানে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। আবার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা মাত্র ১৪ হাজার। এই আসমান-জমিন ফারাকের জন্যই ওয়ার্ড পুনর্ববিন্যাস জরুরি বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। পুরসভা সূত্রে খবর, গত বোর্ডের আমলেই ১০৯ ও ১০৮ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার কিছু অঞ্চল কলকাতা পুরসভার অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সেক্ষেত্রে নতুন ওয়ার্ড তৈরির পাশাপাশি ওই দু’টি ওয়ার্ডকে ভেঙে ছোটো করার পরিকল্পনা ছিল সরকারের। 

    রাজ্যের অন্যান্য পুরসভাতেও কি পুনর্বিন্যাসের পরই ভোট হবে? বিষয়টি স্পষ্ট করেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘ভোটের বিষয়ে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে। আপৎকালীন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না হলে পুরভোট হবে যথা সময়েই।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)