সব সরকারি কর্মীদের বাড়িতে আগে বসবে স্মার্ট মিটার, কী কী তথ্যের ভিত্তিতে?
আজ তক | ১৬ জুন ২০২৬
রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মচারীর বাড়িতে ধাপে ধাপে স্মার্ট মিটার বসানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যে সম্প্রতি বিদ্যুৎ দফতরের প্রধান সচিব অর্থ দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবকে একটি জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন। জানা গিয়েছে, গত ১০ জুন মুখ্যসচিবের জারি করা নির্দেশিকার ভিত্তিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যুৎ দফতর সূত্রে খবর, সরকারি কর্মীদের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট ফরম্যাটে যে তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে কর্মচারীর এইচআরএমএস আইডি, নাম, স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান বাসস্থানের ঠিকানা, কর্মস্থলের নাম, হেড অফ অফিস কোড, অফিসের ঠিকানা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মী বাড়িভাড়া ভাতা (এইচআরএ) পান কি না, এই সব তথ্য।
শুধু সরকারি দফতর নয়, রাজ্য সরকারের অধীনস্থ বিভিন্ন স্বশাসিত সংস্থা, নিগম এবং সরকারি উদ্যোগ সংস্থাগুলির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন বিদ্যুৎসচিব। সেই কারণে এই সংস্থাগুলির পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য অর্থ দফতরের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত কর্মীদের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।
প্রশাসনের শীর্ষস্তরের কর্মকর্তাদের মতে, বিদ্যুৎ ব্যবহারে স্বচ্ছতা আনা, অপচয় কমানো এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা চালুর লক্ষ্যেই এই বৃহৎ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার মানবসম্পদ ও বিতরণ বিভাগের ডিরেক্টরদের পাশাপাশি বিদ্যুৎ দফতরের প্রধান সচিবের আপ্তসহায়ককেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, প্রয়োজনীয় তথ্যভান্ডার হাতে এলেই রাজ্যজুড়ে সরকারি কর্মীদের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানোর মূল কাজ শুরু হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও শুরু হয়েছে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানোর দ্বিতীয় ধাপে এগোচ্ছে সরকার। বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি ও প্রতিবাদ সত্ত্বেও সরকার এই সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। আমরা এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাব।'