• গভীর রাতে হাবড়া স্টেশনে বুলডোজার অ্যাকশন, গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় অবৈধ দোকান
    প্রতিদিন | ১৬ জুন ২০২৬
  • ১৫ জুনের মধ্যে স্টেশন লাগোয়া জমিতে থাকা অবৈধ দোকান সরিয়ে ফেলার নোটিস দিয়েছিল রেল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তারপরেও কথা কানে তোলেননি হকাররা। শেষমেষ সোমবার মাঝরাতেই হাবড়া স্টেশনে নামল বুলডোজার। একে একে ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয় অবৈধ দোকানগুলি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ হাবড়া স্টেশন চত্বর ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী। উপস্থিত ছিল বনগাঁ-বারাসত জিআরপি ও রাজ্য পুলিশও। রেলের জমি খালি করতে শুরু হয় মাইকিং। ঘটনাস্থলে ভিড় জমান হকাররা।

    রেলের তরফে খবর, চলতি মাসের শুরুতে নোটিস দেওয়া হলেও হকাররা নিজেরা দোকান সরিয়ে নেননি। বেশ কয়েকদিন সময় দিয়ে তারপরেই বুলডোজার নামিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। রেলের জমিতে বেশ কয়েকটি পাকা ঘরও তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেগুলিও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় সোমবার রাতেই। রেলের জমিতে সিপিএমের একটি পার্টি অফিসও ছিল বলে অভিযোগ। বুলডোজার অ্যাকশনে তাও ভেঙে ফেলা হয়েছে। এরপরই বামকর্মীরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্টেশন চত্বরে। এলাকা খালি করতে বললে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বিক্ষুব্ধরা।

    উত্তর ২৪ পরগনার অন্যতম ব্যস্ততম স্টেশন হাবড়া। প্রতিদিন হাজারে হাজারে নিত্যযাত্রীদের আনাগোনা লেগেই থাকে। আর এই স্টেশন চত্বরেই কার্যত ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছিল অবৈধ দোকানপাট। ফলে ব্যস্ততার সময়ে গোটা এলাকাজুড়ে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে নিত্যযাত্রীদের ক্ষোভও ছিল। এবার রাজ্যে পালাবদল হতেই একে একে স্টেশন চত্বরগুলিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী সরকার। এর আগেও হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনের পাশাপাশি যাদবপুর, দমদম স্টেশনে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রেল। তবে দোকানদারদের একাংশের অভিযোগ, এভাবে দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়া বেআইনি। রুটিরুজির প্রশ্ন তুলে দিকে দিকে বিক্ষোভ-মিছিলও করছেন হকাররা।
  • Link to this news (প্রতিদিন)