আবারও উত্তরপ্রদেশ! আবারও খারাপ রাস্তায় দুর্ঘটনার কারণে মৃত্যু! জানুয়ারির দুর্ঘটনা স্মৃতি ফিরল ঠিক ছ’মাস পরে। গত ১৬ জানুয়ারি অফিস থেকে নয়ডায় নিজের বাড়িতে ফেরার পথে ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কমে গিয়ে ৯০ ফুট গর্তে পড়ে গিয়েছিলেন যুবরাজ মেহতা নামে বছর ২৭-এর এক ইঞ্জিনিয়ার। অভিযোগ ছিল, কনস্ট্রাকশনের জন্য খোঁড়া সেই গর্তের আশেপাশে কোথাও কোনও বিপদ সঙ্কেত দেওয়া ছিল না। ঠিক সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি এ বার ফরিদাবাদে। মোটরবাইকে চেপে যাওয়ার সময়ে রাস্তায় খুঁড়ে রাখা গর্তে পড়ে মৃত্যু হলো অতুলকুমার জোশি (৪৫) নামে সেখানকার এক বাসিন্দার। রবিবার গভীর রাতে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। যা সামনে এসেছে মঙ্গলবার।
পুলিশ জানায়, অতুলকুমার এক হাসপাতালের ম্যানেজার ছিলেন। রবিবার রাতে তিনি ফরিদাবাদে নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে নয়ডার দিকে যাচ্ছিলেন। ফরিদাবাদ-গৌতম বুদ্ধ নগর রোড ধরে যাওয়ার সময়ে দুর্ঘটনা ঘটে। নির্মীয়মাণ অসম্পূর্ণ রাস্তা যে কখন শেষ হয়ে গিয়েছে তা তিনি বুঝতে পারেননি। দ্রুত গতিতে বাইক নিয়ে গভীর গর্তে পড়ে যান তিনি। দুর্ঘটনাস্থল ফরিদাবাদে, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের সীমানায়। পুলিশের অনুমান, ফরিদাবাদে মাঞ্ঝাওয়ালি ব্রিজ ধরে নয়ডার দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু, এই রাস্তা যে এখনও পুরো তৈরি হয়নি, তা অতুলকুমারের জানা ছিল না বলেই মনে করছে পুলিশ। তাদের আরও অনুমান, কোনও অনলাইন নেভিগেশন সিস্টেমই হয়তো এই রাস্তা দেখিয়েছিল অতুলকুমারকে।
জানা গিয়েছে, গর্তে পড়ে যাওয়ার পরেও বেশ কিছুক্ষণ জীবিত ছিলেন অতুলকুমার। কিন্তু, তিনি এতটাই জখম হয়েছিলেন যে, সাহায্যের জন্য চিৎকারও করতে পারেননি তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় দুর্ঘটনাস্থলে পড়ে থাকতে থাকতেই তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার সকালে তাঁকে ওই অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ এসে অতুলের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। সোমবার তাঁর দেহ তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, ফরিদাবাদ-গৌতম বুদ্ধ নগর রোডের একটি বড় অংশের কাজ এখনও বাকি রয়েছে। রাস্তাটির হরিয়ানার দিকের কাজ শেষ হলেও উত্তরপ্রদেশের দিকের কাজ বহু বছর ধরে বাকি আছে। অতুল কেন এই পথ ধরে নয়ডায় যাচ্ছিলেন তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর পাশাপাশি, কোনও অনলাইন ম্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।