বন্ধুকে বাড়ি থেকে আনতে যাওয়ার আনন্দ নিমেষেই বদলে গেল চরম বিষাদে। ওড়িশা সীমান্ত সংলগ্ন পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল বেলদার এক কিশোর। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন আরও দুই যুবক। মঙ্গলবার সকালে খড়গপুর-বালেশ্বর ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের দাঁতন থানার ঘোলাই এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে তিন বন্ধু একটি মোটরবাইকে চড়ে দাঁতনের দিকে যাচ্ছিলেন। সেখানে তাঁদের আরও এক বন্ধু আসার কথা ছিল, তাকে নিয়েই আসার কথা ছিল তাদের। বন্ধুকে নিয়ে আসার আনন্দ বদলে গেল নিমেষেই। খড়গপুর-বালেশ্বর জাতীয় সড়কের ঘোলাই এলাকায় পৌঁছতেই একটি বালি বোঝাই ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরবাইকটির সজোরে ধাক্কা লাগে। গতি বেশি থাকায় সংঘর্ষটি এতটাই তীব্র ছিল যে, মোটরবাইক থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়েন আরোহীরা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এক নাবালকের।
দুর্ঘটনার বিকট আওয়াজ শুনে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরাই খবর দেন পুলিশে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দাঁতন থানার পুলিশ এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের উদ্ধারকারী কর্মীরা। পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে দ্রুত দাঁতন গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা একজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকি দুই যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা শুরু হয়। তবে একজনের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটায় তাঁকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
এদিকে তরতাজা কিশোরের এই অকাল মৃত্যুর খবর বেলদার চাটলা এলাকায় পৌঁছতেই কান্নার রোল ওঠে। শোকের স্তব্ধতা নেমে এসেছে গোটা গ্রামে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। দুর্ঘটনাগ্রস্ত যানবাহন দুটিকে ইতিমধ্যেই আটক করেছে পুলিশ। ঘাতক ট্রাক্টরের চালকের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। জাতীয় সড়কে বেপরোয়া গতি ও ট্রাফিক নিয়ম না মানার জেরেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কী না, তা খতিয়ে দেখতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দাঁতন থানার পুলিশ।