এই সময়: উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধির জেরে বাজারে জোগান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে মারণ টিটেনাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ জীবনদায়ী ওষুধ অ্যান্টি-টিটেনাস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (এটিআইজি) ইনজেকশনের সর্বোচ্চ মূল্য বা সিলিং প্রাইস ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমতি দিল কেন্দ্রীয় ওষুধমূল্য নির্ধারণ কর্তৃপক্ষ ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরটি (এনপিপিএ)। নিয়ন্ত্রক সংস্থার দাবি, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য, রোগীদের জন্যে এই জরুরি ওষুধটির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা।
বর্তমানে ২৫০ এবং ৫০০ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট (আইইউ) এটিআইজি ভায়ালের সিলিং প্রাইস যথাক্রমে ১,২৭৫ টাকা ও ১,৯২০ টাকা। ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি অনুমোদনের ফলে দাম হতে পারে যথাক্রমে ১,৯১২ ও ২,৮৮১ টাকা।
চিকিৎসকদের মতে, এটিআইজি মূলত ‘পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস’-এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ কোনও ক্ষতে মাটি, ধুলো, বালি, ময়লা, মরচে ইত্যাদির সংস্পর্শের ক্ষেত্রে টিটেনাস প্রতিরোধক হিসেবে এই ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়। পশুপ্রাণীর কামড়েও টিটেনাস সংক্রমণের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি এড়াতে ওষুধটি ব্যবহৃত হয়।
বিশেষত, যাঁদের টিটেনাস টিকাকরণ সম্পূর্ণ নয়, টিকার ইতিহাস জানা নেই অথবা শেষ ডোজ় নেওয়ার পরে দীর্ঘ সময় কেটে গিয়েছে—তাঁদের ক্ষেত্রেই এই ইমিউনোগ্লোবিউলিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনিতে টিকা শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে কয়েক সপ্তাহ সময় নেয়, কিন্তু এটিআইজি দ্রুত প্রস্তুত অ্যান্টিবডি সরবরাহ করে তাৎক্ষণিক সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।
এনপিপিএ জানিয়েছে, এমন একটি জীবনদায়ী ওষুধের কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি–নির্ভর উপাদানের বাড়তি খরচ, উৎপাদন ও পরিবহণ ব্যয়–বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের মূল্য নিয়ন্ত্রণের কারণে নির্ধারিত দামে এই ওষুধ উৎপাদন ক্রমশ অলাভজনক হয়ে উঠছিল। ফলে উৎপাদন কমে যাওয়া বা সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
সূত্রের খবর, প্রস্তুতকারক সংস্থাদের আবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ২০১৩–র ড্রাগস প্রাইস কন্ট্রোল অর্ডার (ডিপিসিও)–এর বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে মূল্যবৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, মূল্যবৃদ্ধির ফলে রোগীদের খরচ কিছুটা বাড়তে পারে ঠিকই। তবে জরুরি চিকিৎসায় ব্যবহৃত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের সরবরাহ যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে, সেটা নিশ্চিত করা খুবই জরুরি।