নেপালে গিয়ে পাকাপাকি থাকার মতলব নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন ফলতার ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গীর খান। তাঁকে গ্রেপ্তার করার পরে ফলতায় নিয়ে এসে হাফপ্যান্ট পরিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘুরিয়েছিল পুলিশ। রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূলের একাধিক নেতাকে গ্রেপ্তার করে এ ভাবেই কোমরে দড়ি পরিয়ে ঘুরিয়েছে পুলিশ। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হলো নদিয়াও। মারধর-জবরদখলের অভিযোগে গ্রেপ্তারির পরে ফুলিয়ার তৃণমূল নেতা নীলরতন ঘোষকে কোমরে দড়ি পরিয়ে ঘোরানোর দাবি করলেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুর থানা এলাকার ফুলিয়াতে।
অভিযোগ, সোমবার এক বৃদ্ধকে প্রকাশ্যে মারধর করেছিলেন ফুলিয়ার তৃণমূল নেতা নীলরতন। এর পাশাপাশি, জোর করে ওই বৃদ্ধের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছিল নীলরতনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পরে সোমবারই নীলরতনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার রাতেই অভিযুক্ত নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নীলরতন গ্রেপ্তার হতেই মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিজেপির স্থানীয় কর্মীরা শান্তিপুর থানায় জমায়েত করেন। তাঁরা দাবি করেন, কোমরে দড়ি বেঁধে নীলরতনকে ঘোরাতে হবে গোটা এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগেও নীলরতনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। বেশ কয়েক বছর আগে ওই নেতা প্রকাশ্যে এক ব্যক্তিকে গুলি করে খুন করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়াও একাধিক বার তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মানুষকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল। এমনকী, মহিলাদেরও মারধর, শারীরিক নিগ্রহ করেছিলেন ওই নেতা, এমন অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, তৎকালীন শাসক দলের ছত্রছায়ায় থাকার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
এ বিষয়ে বিজেপি-র স্থানীয় নেতা চঞ্চল চক্রবর্তী জানান, বহু মানুষের উপরে অত্যাচার করেছে, জমি দখল করেছেন ওই নেতা। এত দিন ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারেননি। থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কিন্তু, পালাবদলের পরে ফের এক বৃদ্ধকে মারধরের অভিযোগ দায়ের হতেই পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। তিনি আরও জানিয়েছেন, এই ভাবেই দুর্নীতি দমন চলবে। ফুলিয়ায় কোনও অসামাজিক কাজ বরদাস্ত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপি নেতা।