• ‘কেন্দ্রের মন্ত্রিত্ব নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি’, জল্পনা ওড়ালেন সুদীপ, ‘হাতুকুতু পিসিমা’ ছড়া লিখলেন কাকলিও
    এই সময় | ১৬ জুন ২০২৬
  • আপাতত নতুন একটি দলের সাংসদ হিসাবেই পরিচিতি পাচ্ছেন তাঁরা। আর সংসদে মিলছে আলাদা ঘরে বসার ব্যবস্থা। তার বাইরে কোনও বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়নি। কেন্দ্রের মন্ত্রী হওয়া নিয়ে তো নয়ই। নতুন দলের নেতা হয়ে ওঠা নিয়েও কোনও কথা হয়নি। সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে এই সব কথা জানালেন সদ্য তৃণমূল ছেড়ে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-তে যোগ দেওয়া সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

    তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পৌরোহিত্যে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার পরে এই অখ্যাত দলটি নিয়ে বিবিধ চর্চা শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। সেই সঙ্গে এনসিপিআই-এর সাংসদদের মধ্যে কেউ কেউ নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে পারেন বলেও জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সেই সূত্রে অভিজ্ঞতার নিরিখে সুদীপকে এগিয়ে রেখেছিল বিভিন্ন মহল। এনসিপিআই-এর নেতা কে হবেন, সুদীপ না কাকলি ঘোষদস্তিদার, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়, প্রবীণ নেতা হিসেবে সুদীপই এগিয়ে রয়েছেন।

    সেই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এক ভিডিয়োবার্তা সুদীপ জানিয়ে দেন, এখনও পর্যন্ত এই বিষয় নিয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি। সুদীপ বলেন, ‘প্রথমে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, আমরা আর একটি দলের সঙ্গে মিলছি। তার পর স্পিকারের ঘরে আলোচনা হয়েছিল, আমাদের আলাদা ঘর দেওয়া হবে। তার বাইরে কোনও আলোচনা কোনও পর্যায়ে কোথাও হয়নি। মন্ত্রী হওয়া, পার্টির নেতা হওয়া, এ সব বিষয় নিয়ে যাঁরা স্পেকুলেশন করছেন, আমার অনুরোধ এগুলো বন্ধ রাখুন। আমি এ সব অস্বীকার করছি।’

    সুদীপের দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই এই ধরনের জল্পনা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সাংসদের কথায়, ‘আমাদের মধ্যে যে ঐক্যের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।’ সুদীপের এই ভিডিয়োবার্তা নিজেদের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেছেন। সেই সঙ্গে একটি ছড়াও লিখেছেন কাকলি। লিখেছেন, ‘হাতুকুাতু পিসিমা/ ঝুটু ছাড়া বলে না/ নাড়ু পাকিয়ে মাথার চুলে/ লোকের মনে বিষ ঢালে/ ভাবে কেউ বোঝে?’

    প্রসঙ্গত, সংসদীয় সূত্রের খবর, এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়ার পর পরেই ‘ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গল’ নামে আলাদা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছেন সুদীপ, কাকলি–সহ ২০ জন সাংসদ। এ সব নিয়ে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নেতা বলে পরিচিত তথা প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়। তিনি বলেন, ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই দলের প্রতীক ঘাসের উপরে জোড়াফুল। ভোটারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ২০ জন সাংসদ অখ্যাত একটি দল এনসিপিআইতে বেআইনি ভাবে যোগ দিয়ে এনডিএ এবং মোদীকে সমর্থন করার কথা বলেছেন। সংবিধানের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদকে এড়াতে ওঁরা এই কাজ করেছেন।’

  • Link to this news (এই সময়)