• 'ভরসার সরকার’ দেখবে পাহাড়: মুখ্যমন্ত্রী
    আজকাল | ১৬ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাহাড়ের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ের মন্টেভিট গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক জনসভা থেকে তিনি বলেন, “ভয়ের সংস্কৃতি শেষ, এবার পাহাড় দেখবে ভরসার সরকার।”

    মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই এটি তাঁর তৃতীয় উত্তরবঙ্গ সফর। এদিন সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছে সড়কপথে কার্শিয়াং যান তিনি। জনসভায় উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশিথ প্রামাণিক, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, সাংসদ রাজু বিস্তা, হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, বিধায়ক সোনম লামা, নোমান রাই, ভরত ছেত্রী, দূর্গা মুর্মু সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিমল গুরুং, রোশন গিরি, মন ঘিসিং ও সঞ্জীব লামা। 

    সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাহাড় বাংলার গর্ব এবং দেশের সম্মানের প্রতীক। তিনি জানান, পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “আমি এখানে ঘুরতে আসিনি, কাজ করতে এসেছি। পাহাড়ের মানুষ আমাকে ভাই হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তাঁদের উন্নয়নই আমার লক্ষ্য।” 

    পাহাড়ের মহিলাদের জন্য ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আওতায় ২৮ লক্ষ মহিলাকে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে কালিম্পংয়ে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, কার্শিয়াং মহকুমা হাসপাতালের সংস্কার এবং সরকারি স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে ইনডোর স্টেডিয়াম ও স্পোর্টস গ্রাউন্ড তৈরির ঘোষণাও করা হয়। 

    চা শ্রমিকদের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ২৫টি চা বাগানের জন্য ৩৩৪ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘পিএম চা শ্রমিক যোজনা’ আগের সরকারের আমলে দুর্নীতির কারণে কার্যকর হয়নি। বর্তমান সরকার দ্রুত সেই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়েছে বলে জানান তিনি। 

    এছাড়া জিটিএ-তে দুর্নীতি, তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাউকে রেয়াত করা হবে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়বাসীদের পুনর্বাসনের বিষয়েও সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে বলে তিনি জানান। 

    সভা শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প পাহাড়ের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর সরকারের লক্ষ্য। পাহাড়ের উন্নয়ন ও মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
  • Link to this news (আজকাল)