পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার পাহাড় সফরে গিয়ে একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কার্শিয়ঙের গোথালস গ্রাউন্ডে আয়োজিত ‘জনকল্যাণ শিবির’-এ যোগ দিয়ে তিনি দাবি করেন, এবার পাহাড়ের মানুষ প্রকৃত অর্থেই ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল পাবেন।
এর আগে বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি নেতা হিসেবে একাধিকবার পাহাড়ে এলেও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এটাই ছিল তাঁর প্রথম সরকারি সফর। এদিন দার্জিলিং পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা তাঁকে যৌথভাবে সংবর্ধনা জানান। সেই অভ্যর্থনায় আপ্লুত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পাহাড়ে সব দলের মানুষের কাছ থেকে যে সম্মান পেলাম, তার মর্যাদা রাখব। কেন্দ্রের যেসব প্রকল্প এতদিন পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি, এবার সেগুলির সুবিধা পাহাড়ের মানুষ হাতে-হাতে পাবেন।”
কালিম্পঙে মেডিক্যাল কলেজ, পাহাড়ে আধুনিক স্টেডিয়াম
দার্জিলিং, কার্শিয়াং এবং কালিম্পং, তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রই বর্তমানে বিজেপির দখলে। পাহাড়কে বিজেপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি ঘোষণা করেন, উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে কালিম্পঙে একটি নতুন মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি শিক্ষা ও ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপরও জোর দেওয়া হবে। ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের আওতায় পাহাড়ে একটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের কথাও জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যের প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ এবার ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাবেন। এছাড়া ‘জিআরএমজি’ প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে পাহাড়ে। বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকিও আগের মতো বহাল থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তোপ
পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'আগের সরকার ছিল সম্পূর্ণ নেতিবাচক মানসিকতার। শুধু রাজ্যেই নয়, জিটিএ-তেও নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। আমাদের সরকার সেই সংস্কৃতি বন্ধ করবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পুলিশ বিভাগে বড় নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে।'
‘আমি পর্যটক নই, কাজ করতে এসেছি’
কার্শিয়ঙের সভা থেকে পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, 'আগের মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলতেন পাহাড়ে তাঁর ভোট নেই, তাই কাজও করতেন না। তিনি পর্যটকের মতো পাহাড়ে আসতেন আর চলে যেতেন। আমি পর্যটক হয়ে আসিনি, কাজ করতে এসেছি। পাহাড়ের মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি যা বলব, তা-ই করব। পাহাড়ের মানুষের দোরগোড়ায় সরকারের সমস্ত প্রকল্প পৌঁছে দেওয়া হবে।'
শহিদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা
পাহাড়ের মানুষদের দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'দেশ যখনই সংকটের মুখে পড়েছে, পাহাড়ের বীর জওয়ানরা সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। দেশ রক্ষায় প্রাণ দেওয়া সকল শহিদ সেনানীকে আমি শ্রদ্ধা জানাই।'
উল্লেখ্য, কার্শিয়ঙের গোথালস গ্রাউন্ডে বর্তমানে প্রশাসনের ১৯টি দফতরের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প নিয়ে ‘জনকল্যাণ শিবির’ চলছে। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী নিজে সেখানে গিয়ে বিভিন্ন পরিষেবা ও প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন।