পূর্ব বর্ধমানের কালনা থানার অন্তর্গত কালিনগর ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে ৭টি জীবন্ত কচ্ছপ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকালে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ব্যাগটি সেখানে কীভাবে এল, কারা রেখে গেল এবং কচ্ছপগুলি কোথা থেকে আনা হয়েছিল তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালেও কয়েকজন টোটো চালক কালিনগর ফেরিঘাটের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
সেই সময় রাস্তার ধারে একটি সন্দেহজনক ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে কৌতূহলবশত ব্যাগটি তুলে এনে পরীক্ষা করেন। কিছুক্ষণ পর ব্যাগ খুলতেই চমকে ওঠেন সকলে। ভিতরে দেখা যায় ৭টি জীবন্ত বাচ্চা কচ্ছপ রয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী টোটো চালক জাকির আলী শেখ জানান, একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে তাঁরা সেটি নিয়ে আসেন। পরে খুলে দেখেন ব্যাগের মধ্যে একাধিক কচ্ছপ রয়েছে। বিষয়টি বুঝতে পেরেই তাঁরা প্রশাসন ও পুলিশকে খবর দেন। অন্য এক টোটো চালক আকাশ শেখও জানান, ব্যাগটি একটি দোকানের সামনে ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হয়।
ব্যাগের ভিতরে থাকা কচ্ছপগুলি দেখতে পাওয়ার পরই তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে কচ্ছপগুলিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়।খবর পেয়ে ধাত্রীগ্রাম ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কচ্ছপগুলি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কচ্ছপগুলিকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া মেনে বনদফতরের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, ব্যাগভর্তি কচ্ছপ ওই এলাকায় এল কীভাবে? এগুলি কি কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, নাকি কেউ ভয়ে বা অন্য কোনও কারণে ব্যাগটি ফেলে পালিয়ে যায়।
যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য জানান হয়নি। ফলে পাচার, অবৈধ বিক্রি বা অন্য কোনও সম্ভাবনা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হলেও, সেগুলির কোনওটিরই সরকারি বা পুলিশি নিশ্চিতকরণ এখনও মেলেনি। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কচ্ছপগুলি কোথা থেকে এসেছে এবং কারা ওই ব্যাগ সেখানে ফেলে রেখে গিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে দিনের শুরুতেই এমন ঘটনায় কালিনগর ফেরিঘাট এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন।উদ্ধার হওয়া ৭টি কচ্ছপ এখন প্রশাসনের হেফাজতে রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর রয়েছে সকলের।