পাকিস্তানের সীমান্তে টহল দেওয়ার সময়ে বিস্ফোরণে আহত হলেন চার সেনা জওয়ান। আহতদের মধ্যে আছে আছেন এক জুনিয়র কমিশনড অফিসার ( Junior Commissioned Officer)-ও। মঙ্গলবার, রাজৌরি সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখার (এলওসি) কাছে ওই বিস্ফোরণ হয়। অন্য দিকে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অশান্তির মধ্যেই রাজৌরিতে নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে সন্দেহজনক পাকিস্তানি ড্রোন দেখা গিয়েছে বলে সেনা সূত্রে খবর।
সূত্রের খবর, প্রতিদিনেই মতো মঙ্গলবারও ওই এলাকায় টহল দিতে গিয়েছিলেন সেনা জওয়ানরা। তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় সামরিক হাসপাতালে।
সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, নওশেরা সেক্টরের ( Nowshera sector) কালাল এলাকায় সেনাবাহিনীর জওয়ানরা যখন এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য টহল দিচ্ছিলেন, তখন দুর্ঘটনাবশত একটি ল্যান্ডমাইন ফেটে যায়।
পিটিআই-কে সেনা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, অনুপ্রবেশ রোধের জন্য একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সম্ভাব্য এলাকাগুলিতে ল্যান্ডমাইন পুঁতে রাখা হয়। বৃষ্টির তোড়ে অনেক সময় সেগুলি ভেসে সরে যেতে পারে। এর ফলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারেও মনে করছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, গত ১০ দিনের মধ্যে এটি তৃতীয় বিস্ফোরণ। এর আগে উরি সেক্টরে আকস্মিক ভাবে গ্রেনেড ফেটে মারা যান দুই সেনা জওয়ান । পুঞ্চে আর একটি ঘটনায় আহত হন দুই জওয়ান। সেই বারেও আকস্মিক বিস্ফোরণ হয়।
তবে, এ দিনের বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত করে জানা যায়নি। কী পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটেছে, তা জানার জন্য তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছেন সেনা আধিকারিকরা।
আর এক দিকে, রাজৌরিতে আন্তর্জাতিক সীমানা এবং নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে দেখা গিয়েছে সন্দেহজনক পাকিস্তানি ড্রোন বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন আধিকারিকরা। সোমবার রাতে সুন্দরবনি সেক্টরে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের দিক থেকে ভারতীয় ভূখণ্ডের দিকে একটি ড্রোনের মতো বস্তু আসতে দেখা যায়। তাতে একটি আলো জ্বলছিল ও নিভছিল বলেও জানা গিয়েছে। সেনা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ড্রোনটি মহাদেব গাপ ও কালাল গ্রামের (Mahadev Gap and Kalal village) মধ্যবর্তী এলাকায় কিছুক্ষণ চক্কর দেওয়ার পর ফিরে যায়।
মাদক বা অস্ত্রের মতো কোনও সামগ্রী ওই এলাকায় ফেলা হয়েছে কি না খতিয়ে দেখতে,মঙ্গলবার সকালে, ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। ওই অভিযানে আপত্তিকর কিছু পাওয়া যায়নি। তবে সেখানেই বিস্ফোরণে আহত হন চার জওয়ান।