• পর্বতারোহণে গিয়ে হাত-পায়ের ২০টি আঙুল বাদ! প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপকে দুষছেন পর্বতারোহী সুমিত
    এই সময় | ১৬ জুন ২০২৬
  • শ্রীকৈলাস পর্বত অভিযানে গিয়ে হাত ও পায়ের ২০টি আঙুলই বাদ পড়েছিল তাঁর। তাতেই শেষ হয়ে গিয়েছিল পর্বতারোহণের স্বপ্ন! এখন ফটোকপির দোকান চালিয়েই সংসার চলে পান্ডুয়ার সেই সুমিত দাসের। তাঁর দাবি, সরকারের দেওয়া নিম্নমানের সামগ্রীর জন্যই তাঁর এত বড় ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। এ নিয়ে নানা জায়গায় অভিযোগও জানিয়েছিলেন। কিন্তু সুরাহা হয়নি। রাজ্যে পালাবদলের সেই সুমিত এ বার সরাসরি আঙুল তুললেন রাজ্যের প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের তৎকালীন যুবকল্যাণ এবং ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে।

    ঘটনাচক্রে, কয়েক দিন আগে চন্দননগরের পর্বতারোহী পিয়ালি বসাকও প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপের বিরুদ্ধে সরব হয়ে একই অভিযোগ তুলেছেন। সুমিতের অভিযোগের ব্যাপারে এই সময় অনলাইন যোগাযোগ করেছিল যুবকল্যাণ দপ্তরের উপদেষ্টা দেবদাস নন্দীর সঙ্গে। তিনি অবশ্য কিছু বলতে চাননি। শুধু বলেন, ‘এ ব্যাপারে সরকারি অনুমতি না মিললে, আমার পক্ষে কিছু বলা অসম্ভব।’

    ২০১৭ সালে পর্বত অভিযানের একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছিল যুব কল্যাণ দপ্তর। তাতেই আবেদন করেন সুমিত। তাঁর দাবি, পর্বত অভিযানের জন্য তাঁকে বেছেও নেওয়া হয়। পরে তাঁদের ডাকা হয় সল্টলেক স্টেডিয়ামে। সেখানে প্রথমে গাড়োয়াল হিমালয়ের সুদর্শন শৃঙ্গ অভিযানের কথা বলা হয়েছিল সুমিতদের। কিন্তু ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে অভিযান শুরুর কয়েক দিন আগেই তাঁদের জানানো হয় সুদর্শন পর্বত নয়, শ্রীকৈলাস শৃঙ্গ অভিযানে যাওয়া হবে। তার উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপই। সুমিতের অভিযোগ, উত্তরাখণ্ডের ২২,৭৪৪ ফুট উচ্চতার পর্বত শ্রীকৈলাশ অভিযানের জন্য যে জ্যাকেট, উলেন মোজা, জুতো, গ্লাভস, স্লিপিং টেন্ট ও সামগ্রী দেওয়া হয়েছিল, তা খুবই নিম্নমানের ছিল। সুমিতের দাবি, নিম্নমানের সামগ্রী না দেওয়া হলে হয়তো হাত-পায়ের আঙুলগুলোও অক্ষত থাকত!

    এখন পান্ডুয়ার তিন্না বাজারে ৪ ফুট বাই ১২ ফুটের দশকর্মা ও ফটোকপির একটি দোকান চালান সুমিত। জানান, ২০১২ সাল থেকে তাঁর পর্বতারোহণ শুরু। ২০১৩ সালে হিমাচলের সিভি-১৩ পর্বত শৃঙ্গ জয় করেন তিনি। ২০১৫-১৬ সালে দার্জিলিংয়ের মাউন্ট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণও নেন। তার পরেই শ্রীকৈলাস শৃঙ্গে ওঠার সুযোগ আসে তাঁর কাছে। সুমিত বলেন, ‘২০১৮ সালের অক্টোবরে এই অভিযানের জন্য বেরিয়েছিলাম আমরা। গঙ্গোত্রী হয়ে হরিদ্বারের শ্রীকৈলাসে পৌঁছতে হয়। এই অভিযানে আমরা ১০ জন গিয়েছিলাম। ভোর ৩টে নাগাদ দেখি, তাঁবু থেকে জল পড়ছে। নিম্নমানের সামগ্রী দেওয়া হয়েছিল আমাদের। প্রায় এক কোমর বরফ কেটে আমাদের যেতে হয়েছিল। অভিযানের জন্য যে কিট লাগে, সেগুলো একদমই খারাপ মানের দেওয়া হয়েছিল। যে সব ব্যাগ, ম্যাট্রেস, জ্যাকেট দেওয়া হয়েছি, সেগুলো একদমই অনুপযুক্ত ছিল। শৃঙ্গ জয় করতে যে দিন যাই, সেই দিনই আমার ফ্রস্টবাইট হয়েছিল। এতে আমার হাত ও পায়ের কুড়িটা আঙুল বাদ যায়। তার চিকিৎসাও ঠিকমতো করানো হয়নি। এখন কোনও ভাবে দোকানটা সামলাচ্ছি। প্রশাসনের দফতরে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু সুরাহা কিছুই হয়নি। দুর্ঘটনা হলে যে মেডিক্যাল সুযোগসুবিধা পায়, সেটাও আমি পাইনি।’

    এ বিষয়ে পান্ডুয়ার বিজেপির বিধায়ক তুষার মজুমদারের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন সুমিত। তুষার বলেন, ‘সুমিত-সহ বেশ কয়েক জন শ্রীকৈলাস পর্বত অভিযানে গিয়েছিলেন। বিগত সরকারের তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস অনেক দুর্নীতি করেছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পুরো বিষয়টা জানিয়ে আমি চিঠি দেব। আমি তাঁকে আশ্বস্ত করেছি। আমি তাঁর পাশে রয়েছি। তৃণমূল মানেই দুর্নীতি। এরা মানুষের কথা ভাবে না, শুধু নিজেদের কথা ভাবে। এরও তদন্ত হওয়া উচিত। পিয়ালী বসাক সুমিত দাস-সহ অনেকের সঙ্গেই এই দুর্নীতি করা হয়েছে।’

  • Link to this news (এই সময়)