• হাসপাতাল চত্বরেই মর্মান্তিক পরিণতি যুবকের
    আজকাল | ১৭ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: অতিরিক্ত ভাড়া না পেলে রোগী নিয়ে যাওয়া যাবে না। পড়ে রইলেন সেই রোগী। শেষপর্যন্ত হল মৃত্যু। অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল বনগাঁর জে আর ধর মহকুমা হাসপাতাল। ভাড়া নিয়ে দর কষাকষির জেরেই গুরুতর আহত এক যুবকের চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাকে ঘিরে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরে অ্যাম্বুল্যান্স বিভাগের সামনে বিক্ষোভও দেখান মৃতের পরিজনরা। মৃত যুবকের নাম বিশ্বজিৎ মণ্ডল (২১)। বাড়ি বনগাঁ থানার জয়পুর এলাকায়। 

    পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোর রাতে বন্ধুদের সঙ্গে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ক্যাটারিংয়ের কাজ সেরে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন ওই যুবক ও তাঁর দুই সঙ্গী। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে বনগাঁ জে আর ধর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকরা আহতদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। 

    অভিযোগ, এরপরই রোগীর পরিবারের সদস্যরা অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য যোগাযোগ করলে নির্ধারিত ভাড়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। পরিবারের দাবি, সেই সময় তাঁদের কাছে চালকদের চাওয়া ৩,৫০০ টাকা ছিল না। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝিয়ে তাঁরা নিজেদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও গাড়ির চাবি পর্যন্ত জামানত হিসেবে দিতে চাইলেও পরিষেবা মেলেনি বলে অভিযোগ।

    অভিযোগ, প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে পড়ে থাকায়, চিকিৎসার জন্য রোগীকে স্থানান্তরিত করা সম্ভব হয়নি। আর সেই কারণেই বিশ্বজিতের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার জন্য সরাসরি অ্যাম্বুল্যান্স চালকদের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন মৃতের পরিজনরা। 

    ঘটনার পর মঙ্গলবার হাসপাতাল চত্বরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্স বিভাগের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মৃত যুবকের দাদা ইন্দ্রজিৎ মন্ডল জানান, অর্থের অভাবে যদি একজন মুমূর্ষু রোগী এই ধরনের জরুরি পরিষেবা না পান, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং অমানবিক। ভবিষ্যতে যাতে কোনও রোগী বা তাঁর পরিবারকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সে জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন তাঁরা। 

    অন্যদিকে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব গোবিন্দ ভট্টাচার্য জানান, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, যুবকের মৃত্যুর জন্য যদি কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে কোনরকম প্রতিক্রিয়া মেলেনি অ্যাম্বুল্যান্স চালকদের তরফে। হাসপাতালের তরফেও বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ আঁটা হয়েছে। জানানো হয়েছে প্রশাসন তদন্ত করে দেখবে।অভিযোগের সত্যতা ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে প্রশাসনিক তদন্তের দিকেই এখন নজর সকলের।
  • Link to this news (আজকাল)