গরমে হাঁসফাঁস করছে দেশ। একই অবস্থা পশ্চিমবঙ্গেরও। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে চাঁদি ফাটার মতো রৌদ্র। ফলে অস্বস্তি বাড়ছে আম আদমির। তবে এখনই সুখবর নেই। বর্ষা কোথাও কোথাও প্রবেশ করলেও এখনই সেভাবে বৃষ্টি হবে না। ফলে যে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা নেই। গরমও কমবে না।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস মডেলগুলির ইঙ্গিত, ২৩ জুনের দিকে পরিস্থিতি উন্নত হতে পারে। অর্থাৎ ঝেঁপে বর্ষার বৃষ্টি নামতে পারে। তার আগে নয়। আবহাওয়াবিদদের মতে, প্রযুক্তিগতভাবে মধ্য ও পূর্ব ভারতের কিছু অংশে বর্ষা এগিয়ে চলেছে ঠিকই, কিন্তু বৃষ্টি-সৃষ্টিকারী ব্যবস্থাটি অস্বাভাবিকভাবে দুর্বল হয়ে আছে। ১৫ থেকে ২১ জুনের মধ্যে বর্ষার বড় ধরনের সক্রিয়তা কম থাকার কথা। যার ফলে দেশের অনেক অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা আরও বাড়তে পারে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী সপ্তাহে ব্যাপক বর্ষণের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাও সেটা দক্ষিণ ভারতে। কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু সীমান্ত অঞ্চল এবং পূর্ব ঘাট পর্বতমালায় ঘন ঘন বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকছে। এর ফলে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
তবে এখনও যা গতিপ্রকৃতি তাতে মহারাষ্ট্রের আরও কিছু অংশ, কর্ণাটকের বাকি এলাকা, তেলেঙ্গানা, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং ছত্তিশগড়ের কিছু অংশে বর্ষার বৃষ্টি শুরুর অনুকূল পরিস্থিতি বজায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্ষার বিস্তার বা এগিয়ে চলা এবং বর্ষার সক্রিয়তা সব সময় এক বিষয় নয়। মানচিত্রে বৃষ্টি সৃষ্টিকারী বাতাস হয়তো উত্তর দিকে অগ্রসর হতে থাকে, কিন্তু ব্যাপক বৃষ্টিপাতের জন্য প্রয়োজনীয় বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি বর্তমানে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। সেজন্য বর্ষা এলেও দেখা দিচ্ছে না।
কবে থেকে ভারী বর্ষণ?
পূর্বাভাস অনুসারে, জুনের দ্বিতীয়ার্ধে বর্ষার ভালো প্রভাব দেখা যেতে পারে। ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে দক্ষিণ ভারত ও পূর্ব ভারতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গেও তখন বর্ষণ হবে। জুনের শেষ ও জুলাইয়ের প্রথম দিকে তা বজায় থাকবে।