নদী থেকে নীরবে হারিয়ে যাচ্ছে চেনা স্বাদ, দূষণের কোপে সুন্দরবনে বিলুপ্তির পথে বহু মাছ
News18 বাংলা | ১৭ জুন ২০২৬
নদীর কণ্ঠ নীরব হয়ে যাচ্ছে, বিলুপ্তির পথে সুন্দরবনের দেশীয় মাছ! একসময় সুন্দরবনের নদী-খাঁড়িগুলি ছিল দেশীয় নানা প্রজাতির মাছের ভাণ্ডার। ‘চাদা আমলেট’, ‘কাক্কই’, ‘গড়ুই’, ‘তেলটুপি’, ‘পাথরকাটা’–এর মতো স্বাদে ও বৈশিষ্ট্যে অনন্য মাছ স্থানীয় মানুষের খাদ্যতালিকার পাশাপাশি সুন্দরবনের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পরিচিত মাছগুলোর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে।
অনেক প্রজাতিই আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। বসিরহাটের এক অনুষ্ঠানে এসে কৃষি ও কৃষি বিপণন দফতরের কমিশনার আইএএস হৃষিকেশ মোদি এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় কৃষিকাজে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার নদী ও জলাশয়ের পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে, যার ফলে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে।
কৃষিজমি থেকে বৃষ্টির জলে ভেসে আসা রাসায়নিক পদার্থ নদীতে মিশে জলজ বাস্তুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্লাস্টিক দূষণ। নদীর জলে জমা হওয়া ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রো-প্লাস্টিক মাছের শরীরে প্রবেশ করছে, যা তাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও প্রজনন প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় বিভিন্ন মাছের অন্ত্রে রাসায়নিক উপাদান ও মাইক্রো-প্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। এই পরিস্থিতি শুধু জলজ প্রাণীর জন্যই নয়, সেই মাছ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
পরিবেশবিদদের মতে, নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়া, দূষণ বৃদ্ধি এবং বাসস্থান পরিবর্তনের কারণে সুন্দরবনের বহু দেশীয় মাছ দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে শুধু জীববৈচিত্র্যই নয়, স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকা এবং ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতিও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাসায়নিকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, প্লাস্টিক দূষণ কমানো এবং নদী ও জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে সুন্দরবনের আরও বহু দেশীয় মাছ কেবল বইয়ের পাতায় বা মানুষের স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে যেতে পারে। সুন্দরবনের নদীগুলির প্রাণ ফিরিয়ে আনতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহল।