: নদিয়ার গয়েশপুর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের আনন্দপল্লী এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক মধ্যবয়সী মহিলার মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃতার নাম বকুল সরকার (প্রায় ৫০)। মঙ্গলবার এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের দাবি, দুপুর থেকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির কারণে এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত ছিল। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও চরমে পৌঁছয়। বকুল দেবীও প্রতিদিনের মতো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতভর বিদ্যুৎ না থাকলেও ভোরের দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক হয়।
অভিযোগ, মঙ্গলবার ভোরবেলায় বাড়ির বাইরে বেরোতে গিয়েই কোনওভাবে বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতরভাবে আহত হন বকুল দেবী। ঘটনার পর দীর্ঘক্ষণ তার কোনও সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাকে খোঁজার চেষ্টা শুরু হয়। স্থানীয়দের দাবি, বাঁশ দিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করার পর তাকে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তখনই অনুমান করা হয়, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
খবর পেয়ে গয়েশপুর পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে এটি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা বলেই মনে করা হলেও, ঠিক কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটল তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বাড়ির কোথাও বিদ্যুতের লিকেজ ছিল কি না, বৈদ্যুতিক সংযোগে কোনও ত্রুটি ছিল কি না অথবা অন্য কোনও কারণ এই মৃত্যুর নেপথ্যে রয়েছে কি না, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক ঘটনায় আনন্দপল্লী এলাকায় গভীর শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।