• ‘ঘরের ছেলে’ পর্যটন মন্ত্রী, উত্তরবঙ্গের পর্যটনে আশার আলো দেখছেন ব্যবসায়ীরা
    News18 বাংলা | ১৭ জুন ২০২৬
  • একসময় এই শহর নিজেদের ‘ঘরের ছেলে’ হিসেবে পেয়েছিল প্রাক্তন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবকে। তাঁর আমলে উত্তরবঙ্গের একাধিক পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়ন হয়েছিল এবং নতুন পর্যটন সম্ভাবনার দরজা খুলেছিল। এবার আবারও শিলিগুড়ির মানুষ নিজেদের বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী হিসেবে পেয়ে নতুন আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সকলেরই বিশ্বাস নতুন নেতৃত্বে উত্তরবঙ্গের পর্যটন আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

    ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ির পর্যটন দফতরের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন শংকর ঘোষ। তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত হন পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও দফতরের আধিকারিকরা।

    দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্য সরকার পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন শিল্পকে বিশ্বের দরবারে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে চায়। উত্তরবঙ্গের পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করতে টি-ট্যুরিজমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

    পর্যটকদের যাতে কোনও ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেদিকেও সরকারের কড়া নজর থাকবে বলে জানান নতুন পর্যটন মন্ত্রী। তাঁর এই ঘোষণার পর থেকেই পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদের সঞ্চার হয়েছে। উত্তরবঙ্গের পর্যটনকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানের করে তুলতে সরকারের উদ্যোগ ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

    ইস্টার্ন হিমালয়া ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন তার হারানো গৌরব ফিরে পাক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। শিলিগুড়ি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গেটওয়ে। নেপাল ও ভুটানের আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সেই তুলনায় পর্যটন অবকাঠামোর আরও উন্নয়ন প্রয়োজন, নতুন সরকারের কাছে সেই প্রত্যাশাই রাখছি।”

    অন্যদিকে, দিল্লি-শিলিগুড়ি বুলেট ট্রেন প্রকল্পের ঘোষণাও উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও ব্যবসায়িক মহলে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ইস্টার্ন হিমালয়ান ট্রিপসের অ্যাসোসিয়েট মেম্বার অর্পণ ছেত্রী বলেন, “মাত্র ছ’ঘণ্টায় দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পৌঁছনোর সুযোগ তৈরি হলে পর্যটনের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও বিপুল পরিবর্তন আসবে। দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা উত্তরবঙ্গকে দেশের অর্থনৈতিক মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে।”

    রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের ঘোষণার পর থেকেই শিল্পপতি ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বুলেট ট্রেন শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাবে না, বরং নতুন বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানেরও পথ খুলে দেবে। নতুন পর্যটন মন্ত্রী এবং সম্ভাব্য বুলেট ট্রেন—এই দুইকে ঘিরেই এখন উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পে নতুন স্বপ্নের বীজ বপন হয়েছে, যার বাস্তব রূপ দেখার অপেক্ষায় গোটা পাহাড়-তরাই-ডুয়ার্স।
  • Link to this news (News18 বাংলা)