৭৫-এর ‘সবুজ’ লড়াই! একাকীত্বকে হারিয়ে ছাদবাগানেই নতুন জীবন খুঁজে পেলেন দাঁতনের পূর্ণবাবু
News18 বাংলা | ১৭ জুন ২০২৬
বয়স পঁচাত্তর ছুঁয়েছে। চোখে-মুখে বার্ধক্যের স্পষ্ট ছাপ। কয়েক বছর আগে স্ত্রীকে হারিয়েছেন, একমাত্র ছেলেও কর্মসূত্রে থাকেন বাইরে। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন থানার জেনকাপুর এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা পূর্ণচন্দ্র রায়ের সংসারে বলতে গেলে তিনি একেবারেই একা। নিজের হাতে রান্না করা থেকে ঘরকন্না— সবই সামলাতে হয় একহাতে। কিন্তু এই নিঃসঙ্গতা তাঁকে গ্রাস করতে পারেনি। কারণ, তাঁর একাকী জীবনের ঘর জুড়ে রয়েছে হাজারও সবুজ প্রাণ। শৈশবের সেই গাছের প্রতি ভালবাসাই আজ এই বয়সে এসে তাঁর বেঁচে থাকার রসদ এবং উপার্জনের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
এক সময় সমবায় সমিতির ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন পূর্ণবাবু। তবে গাছের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা প্রায় ৬০-৬৫ বছর আগের। স্কুলজীবনে শিক্ষকের গাছ লাগান দেখে প্রথম অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। বাড়ির সামনে সামান্য কিছু গাছ দিয়ে যে শখ শুরু হয়েছিল, কলেজ জীবনে তা আরও ডালপালা মেলে। কর্মজীবনে ব্যাঙ্কের কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও গাছের পরিচর্যায় কোনও খামতি রাখেননি। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর সেই ভালবাসাই পূর্ণাঙ্গ রূপ নিয়েছে এক বিশাল নার্সারিতে।
আজ তাঁর বাগানে ইনডোর, আউটডোর-সহ দেশি-বিদেশি নানারকম ফল ও ফুলের হাজার হাজার গাছ রয়েছে। প্রতিদিন নিয়ম করে গাছের গোড়ায় জল দেওয়া, মাটি তৈরি করা, নতুন চারা তৈরি— সবটাই তিনি করেন একা হাতে। আর এই বাগানই আজ তাঁকে দিচ্ছে মানসিক প্রশান্তি ও স্বনির্ভরতা। রথযাত্রা বা দুর্গাপুজোর মরশুমে তাঁর গাছের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। সাধারণ দিনেও দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসেন তাঁর সংগ্রহ দেখতে। এই বয়সে এসেও প্রতি মাসে বাগান থেকে তাঁর অনায়াসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা রোজগার হয়।
সব হারিয়েও জীবনের শেষপ্রান্তে এসে যেভাবে পূর্ণবাবু সবুজকে আঁকড়ে ধরে স্বাবলম্বী হয়েছেন, তা এক অনন্য নজির। একাকীত্বকে জয় করে তাঁর এই নিরলস পরিশ্রম ও বাণিজ্যিক চিন্তাভাবনা আজ এলাকার তরুণ প্রজন্মের কাছেও এক বড় অনুপ্রেরণা।