• মাংস, চাটনি, পাঁপড়...! মিড-ডে মিলের পাতে জিভে জল আনা মেনু, কাটোয়ার স্কুলে এলাহি কাণ্ড
    News18 বাংলা | ১৭ জুন ২০২৬
  • : জন্মদিন মানেই শুধু কেক কাটা বা বাড়িতে ছোটখাটো অনুষ্ঠান নয়। সেই আনন্দকে সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার এক সুন্দর নজির গড়ল কাটোয়া ২ নম্বর ব্লকের পোস্টগ্রাম এফপি স্কুল। উপলক্ষ্য ছিল বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক খুদে পড়ুয়া অভিনন্দনের সপ্তম জন্মদিন। ছেলের এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে অভিনন্দনের পরিবার স্কুলের সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আয়োজন করেছিল এক বিশেষ তিথিভোজের। আর সেই আয়োজনেই যেন একদিনের জন্য ভোজবাড়িতে পরিণত হয়েছিল স্কুল চত্বর।

    সাধারণ দিনের মিড-ডে মিলের বদলে এদিন পড়ুয়াদের জন্য ছিল জমকালো মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা। ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করা হয় পোস্তর তরকারি, মাংস, চাটনি, পাপড়, দই, নানা ধরনের মিষ্টি এবং শেষ পাতে সুস্বাদু পায়েস। এতসব পছন্দের খাবার একসঙ্গে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়ে খুদে পড়ুয়ারা। পেটপুরে খাওয়াদাওয়া করে তাদের মুখে ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কুমার ঘোষ বলেন, “আজকে অভিনন্দন ভট্টাচার্যের আজকে সপ্তম জন্মদিন। ওর বাবা-মা খুশি হয়ে আজকে ভাত, পোস্ত, মাংস, মিষ্টি, দই ইত্যাদি আয়োজন করেছেন। সকালে ছেলেদেরকে একটা করে কেক, একটা করে কলা উনি টিফিন দিয়েছেন এবং ওনাকে আমরা খুব কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জানাই এবং অভিনন্দন ভট্টাচার্যের আমরা দীর্ঘায়ু কামনা করি।” শুধু খাওয়াদাওয়াই নয়, জন্মদিন উপলক্ষে বিদ্যালয়ে একটি ছোট্ট অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। সেখানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, মিড-ডে মিল কর্মী এবং সহপাঠীরা অভিনন্দনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ জানান।

    স্কুলজুড়ে তৈরি হয় এক আনন্দঘন পরিবেশ। ছেলের জন্মদিনে এমন আয়োজন করতে পেরে খুশি অভিনন্দনের পরিবারও। অভিনন্দনের বাবা জানান, প্রতিবছরই তিনি এইভাবে স্কুলের সকল পড়ুয়ার সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিয়ে ছেলের জন্মদিন পালন করতে চান। শিশুদের মুখে হাসি দেখাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। অভিনন্দনের বাবা সুকমল ভট্টাচার্য্য বলেন, “মন গেল যে জন্মদিন, সপ্তমতম জন্মদিন আমার ছেলের। চাইলাম যে হ্যাঁ, সমস্ত বাচ্চাদের সঙ্গে আনন্দ উপভোগ করতে। যাতে স্কুলের সঙ্গে একটা সম্পর্ক, আমারও যেরকম সম্পর্ক ভাল তৈরি হবে, আরও চাই গ্রামবাসী যারা তারাও করুক। তাদের সঙ্গেও গ্রামবাসীদের ভাল সম্পর্ক তৈরি হবে। আর মন চেয়েছে হ্যাঁ, এ অন্যরকম আইকনিক জিনিস, আমার মত আরও সবাই করুক। হ্যাঁ স্কুলের পক্ষে ভালো হবে, গ্রামের পক্ষেও ভাল হবে। এইটুকুই।” এক খুদে পড়ুয়ার জন্মদিনকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের এই মহাভোজ শুধু শিশুদের মন জয় করেনি, বরং সমাজের কাছে এক সুন্দর বার্তাও তুলে ধরেছে। আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়।
  • Link to this news (News18 বাংলা)