• বিরোধী দলনেতা স্বীকৃতি সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে অধ্যক্ষ
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৭ জুন ২০২৬
  •  

    বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা কে হবেন এ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব মামলা করেন। অধ্যক্ষের মাধ্যমে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় সাংবিধানিক বিধি ও বিধানসভার নিয়ম লঙ্ঘিত হওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা খতিয়ে দেখার জন্য আদালতে আবেদন জানান তৃণমূলের প্রবীণ নেতা।

    শুক্রবার মামলার প্রথম শুনানি হয়। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন, কেন বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়া হল? অবিলম্বে বিধানসভার অধ্যক্ষর সিদ্ধান্তের উপর স্থগিতাদেশ জারি করা হোক।

    মঙ্গলবারের মামলায় রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য এই ঘটনায় আদৌ বৈষম্য হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে জানিয়েছেন। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের সময় কতজন সই করেছেন এবং বক্তব্য না শুনেই কি অধ্যক্ষ বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করতে পারেন কি না নিয়েও প্রশ্ন করেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।

    এরপর অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য বলেন, রেজলিউশন ৬ মে নেওয়া হয়। ১৯ মে সই করতে বলা হয়। তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের জন্য যে বৈঠক হয় সেখানে অধ্যক্ষের উদ্দেশ্যে যে চিঠি লেখা হয় তাতে বিরোধী বিধায়কদের স্বাক্ষর ব্লক লেটারে লেখা হয়েছিল। যা হাউসের নিয়ম বহির্ভূত বলে জানান তিনি।

    এই পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি বিধানসভার অধ্যক্ষের ভূমিকার বিষয়ে জানতে চান। ৯ মে চিঠি পাঠানো হয়। তারপরও অধ্যক্ষ কেন চুপ করে ছিলেন তা জানতে চান বিচারপতি। তার উত্তরে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, ১৮ তম বিধানসভার জয়ী বিধায়করা বৈঠক করে বিরোধী দলনেতা ঠিক করা হয়, যা স্বাভাবিক। এফআইআর খারিজের জন্য একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

    সিআইডি নোটিস পাঠায়। ১ জুন চিঠি দেওয়া হয় অধ্যক্ষের দপ্তরে। আরও একটি চিঠি দেওয়া হয়। তৃণমূলের তরফে বলা হয় ৬ জুন রেজিলিউশন নেওয়া হয়েছে। ১৯ তারিখ তা গ্রহণ করা হয়। এখানে অধ্যক্ষের কোনও ভূমিকা নেই বলে জানান তিনি। এর আগে বিধানসভায় এই ধরনের অভিযোগ ওঠেনি বলে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি বলেন, ‘চিঠি যখনই হাতে আসুক না কেন, তখনই কেন প্রশ্ন করা হয়নি। বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করার প্রস্তাব কে দিয়েছে?’ ২৭ মে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয় এবং সিআইডি তদন্তভার হাতে নিয়েছে বলে বিচারপতিকে জানান অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল।  এরপর বিচারপতি বলেন, একই দলের তরফে দু’টি প্রস্তাব এলে তখন অধ্যক্ষ কী করেন? কোনটা গ্রহণ করা হয়? স্বতঃপ্রণোদতি পদক্ষেপ না কি বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়? প্রথম প্রস্তাব যখন আসে, কোনটা সঠিক, কোনটা ভুল কী করে বোঝা হয়?’

    বিচারপতি আরও বলেন, অধিবেশন না ডেকে দু’টি প্রস্তাবের মধ্যে কোনটা গ্রহণযোগ্য তা কী করে বিবেচনা করা হয়? দু’জনের অভিযোগের ভিত্তিতে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল সে বিষয়েও প্রশ্ন করেন বিচারপতি। এই প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে দু’টি স্বাক্ষর মেলানো হয় এবং রেকর্ড দেখা হয় বলে জানান অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান।

    তখন বিচারপতি আবারও জানতে চান দু’জনের সই নিয়েই শুধু প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। বাকিদের নিয়ে তো তা করা হয়নি। প্রথম প্রস্তাবে ৭৮ জনের সই ছিল। দু’জনের প্রশ্নের পরিপ্রক্ষিতে অধ্যক্ষের কী ভূমিকা হবে তা জানতে চান তিনি। অধ্যক্ষের সেই ক্ষমতা আছে বলে জানান আইনজীবী জয়দীপ কর। আগামীকাল ফের মামলার শুনানি হবে। দুপুর দুটোর সময় মামলা শুনবেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)