আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে মানুষের উৎসাহ তুঙ্গে, জনকল্যাণ শিবিরে বাড়ছে ভিড়
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৭ জুন ২০২৬
রাজ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে জনকল্যাণ শিবির। টানা তিনদিন তা চলবে। শহর থেকে জেলা সর্বত্র এই শিবির বসেছে। যেখানে মানুষ গিয়ে নানা প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন। আবার বিপুল পরিমাণ মানুষ ফর্ম পূরণ করছেন নানা প্রকল্পের। সেখানে দেখা যাচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার ফর্ম তুলতে জনকল্যাণ শিবিরে উপচে পড়ল ভিড়। বিপুল পরিমাণ আয়ুষ্মান ভারত যোজনার ফর্ম বিলি হয়েছে। অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বা যোজনার চেয়ে আয়ুষ্মানেই বেশি আগ্রহ দেখাল মানুষজন। আয়ুষ্মান ভারত ও অন্নপূর্ণা যোজনা এই দু’টি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতেই শহর ও গ্রামবাংলার শিবিরগুলিতে দিনভর দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে। তীব্র রোদ ও প্রচণ্ড গরমে ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে লাইন দেয় মানুষ। মহিলাদের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি।
কলকাতা এবং জেলায় জনকল্যাণ শিবিরে ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় সরকারি কর্মীদের। বিধায়কের নির্দেশে বিজেপি কর্মীরাও এই কাজে মানুষকে সাহায্য করতে নেমে পড়েছেন। এদিন সঠিক রেজিস্ট্রেশন টেবিলে পৌঁছে দেন শিবিরে আসা মানুষজনকে। বিজেপি কর্মীরা বলেন, কোন শিবিরে কোন টেবিলে কোন যোজনা বা প্রকল্পের রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে তা চিহ্নিত করে মানুষকে পাঠানো হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে শিবিরে এক লাইন থেকে অন্য লাইনে দীর্ঘক্ষণ ঘুরপাক খেতে হয়নি কাউকে। সঠিকভাবে গাইড করা হয়েছে। বিজেপি কর্মীরা এই বিষয়ে সহযোগিতা করেন।
এই শিবিরে আসা বয়স্কদের জলের ব্যবস্থা করা, বাড়ি ফেরার জন্য টোটোর ব্যবস্থা করে দেওয়াও হয়েছে। মানুষকে সাহায্য করতে নানা পুরসভার কর্মীদেরও কাজে লাগানো হয়েছে। সমন্বয়ের অভাবের কারণে প্রথমদিন কিছু সময় সমস্যা হয়েছিল। পরে সব ঠিক হয়ে যায়। কোথাও কোথাও শুরুতে অনলাইন নেটওয়ার্ক ও সার্ভারের গণ্ডগোলের জন্য রেজিস্ট্রেশনের কাজে দেরি হয়। পরে তাও ঠিক হয়ে যায়। ফলে উপকৃত হন আগত মহিলারা।
জনকল্যাণ শিবিরে আসা মহিলারা বলেন, নতুন সরকারের আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা রাজ্য-সহ দেশের অন্যান্য বড় হাসপাতালেও মিলবে। তাই কষ্ট হলেও লাইন দিয়ে ফর্ম নিচ্ছি। এক দোকানকর্মী বললেন, আগেই আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড করেছি। এদিন শিবিরে এসে ওই কার্ড অ্যাকটিভ কিনা যাচাই করেছি। জানা গিয়েছে, আধার কার্ডের নম্বর রেজিস্ট্রেশন করে ফর্ম দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি শিবিরেই এদিন চারাগাছ দেওয়া হয়েছে মানুষজনকে। এই শিবিরে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর খাবার দোকান ও হাতের কাজ দেদার বিক্রি হয়েছে। শিবিরে আগত মানুষের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষারও ব্যবস্থা করা হয়েছিল।