‘ভগৎ সিং-আসফাকউল্লারা আদর্শচ্যুত হননি, ১০ বার মুচলেকা দেন সাভারকর’, আদালতে স্বীকারোক্তি দৌহিত্রের
প্রতিদিন | ১৭ জুন ২০২৬
মাত্র ১ মাসের কারাবাসের পরই ব্রিটিশদের কাছে ক্ষমা চেয়ে মুচলেকা দিয়েছিলেন বিনায়ক দামোদর সাভারকর। আদালতে নয়া স্বীকারোক্তি ‘বীর’ সাভারকরের দৌহিত্র সাত্যকির। তিনি পুণের আদালতকে জানালেন, ওই সময়ে ভগৎ সিং বা বটুকেশ্বর দত্তর মতো বিপ্লবীরা ব্রিটিশদের নারকীয় অত্যাচার সহ্য করেও ক্ষমাপ্রার্থনা করেননি। তাঁরা আদর্শচ্যুত হননি। তবে সাভারকর ওই সময় ১০ বার ক্ষমা চান। সেটাই শাস্তি কমানোর নিয়ম ছিল। তবে সাত্যকির দাবি, ওই ক্ষমা চাওয়ার মধ্যে কাপুরুষতার কিছু নেই। অনেক বিপ্লবীই সেসময় শাস্তি কমাতে ওই পন্থা অবলম্বন করতেন।
বীর সাভারকরকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যে করার অভিযোগে মানহানির মামলা দায়ের হয়েছিল রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে। অথচ সেই মামলার শুনানিতে গিয়ে সাভারকরের দৌহিত্র সাত্যকি সাভারকর সেই সব অভিযোগ মেনে নিচ্ছেন, যেগুলির জন্য রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন তিনি। সাত্যকি সাভারকর মেনে নিয়েছেন, ক্ষমাপ্রার্থনা করে ব্রিটিশদের কাছে ১০ বার মুচলেকা জমা দিয়েছিলেন বীর সাভারকর। এমনকী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ব্রিটিশ সেনাতে চাকরির আরজিও জানিয়েছিলেন।
এবার আদালতে বয়ান দিতে গিয়ে সাত্যকি বললেন, “এটা সত্যি যে সাভারকর ব্রিটিশদের ১০টি মুচলেকা দিয়েছিলেন। যেখানে ভগৎ সিং, বটুকেশ্বর দত্ত, আসফাকউল্লা খানরা নিজেদের আদর্শে অনড় থেকে নিজেদের যুদ্ধাপরাধী হিসাবে চিহ্নিত করার আর্জি জানান, সেখানে সাভারকর প্রথম মাসেই মার্জনাপত্র লেখেন।” তবে সাত্যকির দাবি, ওই সময় এমন মুচলেকা লেখাটা না ব্যতিক্রমী আর না আইনবিরুদ্ধ। অনেকেই এই পন্থা অবলম্বন করতেন। তবে সাভারকরের দৌহিত্রের দাবি, বীর সাভারকরের মুচলেকায় ব্রিটিশ সরকারের আনুগত্যের মতো কোনও শব্ধ ছিল না। পরে ওই শব্দটি ব্রিটিশরা বা জেল কর্তৃপক্ষ ঢুকিয়ে দিতে পারে বলেও ইঙ্গিত করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলার শুনানি চলছে পুণের এমপি-এমএলএ কোর্টে। মামলা দায়ের করেছিলেন সাভারকরের পৌত্র সত্যকি নিজেই। তাঁর অভিযোগ ছিল, “২০২৩ সালের ৫ মার্চ লন্ডন সফরে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে সাভারকরকে অপমান করেছিলেন কংগ্রেস নেতা। বছরের পর বছর ধরে তাঁর বিরুদ্ধে লাগাতার অপমানজনক মিথ্যা তথ্য দিয়ে গিয়েছেন রাহুল। সত্য জানা সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক স্বার্থে মিথ্যা বক্তব্য পেশ করেছেন তিনি।” সাত্যকির দাবি ছিল, রাহুল যেসব দাবি করেছেন সেগুলির কোনওটিই সম্পূর্ণভাবে সত্যি নয়। কিন্তু এখন তিনি সেই সব অভিযোগই কার্যত মেনে নিচ্ছেন।