• সারান্ডা থেকে পলাতক ১০ লাখি মাও কমান্ডার! আস্তানা কি বঙ্গে? পথ চেয়ে অসুস্থ মা
    প্রতিদিন | ১৭ জুন ২০২৬
  • যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে ঝাড়খণ্ডের সারান্ডা থেকে পালিয়ে গিয়েছেন ১০ লাখ টাকার মাথার দামের মাও কমান্ডার নেত্রী! মাও বঙ্গ ব্রিগেডের সদস্য, সিপিআই (মাওবাদী)-র জোনাল কমিটির সদস্য শকুন্তলা মাহাতো স্কোয়াড ছাড়তেই হইচই বেঁধে গিয়েছে বাংলা-ঝাড়খণ্ড পুলিশ মহল থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীতে। প্রশ্ন ১০ লাখি মাও কমান্ডার কোথায়? আত্মগোপন করে কি বাংলাতেই রয়েছেন? আর এদিকে মেয়ের অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে আছেন মা। পরিবারের কাতর আবেদন এবার ঘরে ফিরে আয়।

    মাও নেত্রী শকুন্তলা স্কোয়াডে পরি, বর্ষা, পুষ্পা নামে পরিচিত। বাড়ি ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি থানার মেছুয়া গ্রামে। মাও স্কোয়াডে চার-চারটি নাম নিয়ে কাজ করলেও বাড়ির কাছে তিনি ‘লুটুন’। সেই ঘরের মেয়ে এবার কি ঘরে ফিরবে? তার মেজো বোন পূর্ণিমা মাহাতো বলেন, “আর আমরা পারছি না। সেই বাম জমানা থেকে বারে বারে আমাদের ঘরে পুলিশ আসছে। ঝাড়খণ্ড পুলিশ বাড়ির দেওয়ালে পোস্টার সাঁটিয়ে হুলিয়া জারি করেছে। বলেছে সব সম্পত্তি নিয়ে নেবে। ঝাড়খণ্ডে যেভাবে অভিযান চলছে তাতে আমাদের ভয় লাগছে। তাই হাত জোড় করে বলছি দিদি, এবার বাড়ি ফিরে আয়। মায়ের শরীর একদম ভালো নেই।” সেই আট বছর ধরে মা মেথিলা মাহাতো ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত। তাঁর কথায়, “জানি না আর কতদিন বাঁচব। সেই ছেলেবেলায় মেয়েটা ঘর থেকে চলে গিয়েছিল। মরার আগে কি দেখে যেতে পারব?” 

    তখন লুটুন মাত্র ১০। আর পাঁচটা মেয়ের মতো তার লেখাপড়া, খেলায় মেতে থাকা উচিত ছিল। কিন্তু ঘরে ছিল খিদে পেটের যন্ত্রণা। দু’বেলা ভরপেট খাওয়ার জন্য মাওয়িস্ট কমিউনিস্ট সেন্টার (এমসিসি)-র সাংস্কৃতিক শাখায় যোগ দিয়েছিলেন। ওই ছেলেবেলাতেই গান-বাজনা যে তার আলাদা আকর্ষণ ছিল। তাই পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হলেও হাই স্কুলে পা রাখেননি শকুন্তলা। ওই নকশাল সংগঠনে গান-বাজনা করতে করতেই হাতে তুলে নিয়েছিল বন্দুক। বিভোর হয়ে যায় সমাজ বদলানোর স্বপ্নে। তখন বাম আমলে শকুন্তলাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল পুলিশ। তাই বনপার্টিরা তাকে বর্তমান ঝাড়খণ্ডের পরেশনাথ পাহাড়ে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু সংগঠনের কাজে আবার তাঁকে বাংলায় নিয়ে আসে। 

    ২০০৩ সালে এই ঝাড়গ্রামে স্কোয়াডে থাকাকালীন এরিয়া কমান্ডার অতুল মাহাতোর সঙ্গে আলাপ হয়। ২০০৪-এ এমসিসি ও জনযুদ্ধ গোষ্ঠী মিলে গঠিত হয় সিপিআই (মাওবাদী)। ২০০৫-এ ঝাড়খণ্ডের তামাড় জঙ্গলে অতুলের সঙ্গে কমরেড ম্যারেজ হয় শকুন্তলার। তারপর সাংগঠনিক কাজে সিপিআই (মাওবাদী)-র ইস্টার্ন রিজওনাল ব্যুরো-র ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি, ঝাড়খণ্ডের দলমা, ঘাটশিলা, গোটাশিলা, পারশনাথ পাহাড়, বুণ্ডু-তামাড়, সারান্ডা-সহ কোথায় না পাঠানো হয় এই মাও নেত্রীকে। বাম আমলে এই জঙ্গলমহলে লালগড় আন্দোলনে কিষাণজির সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি! কাজ করেন কিষাণদার সঙ্গেও। ২০১২ সালের পর সিপিআই (মাওবাদী)-দের বঙ্গ ব্রিগেড ঝাড়খণ্ডে গা ঢাকা দেয়। কিন্তু সেখানেও কোণঠাসা হয়ে যান তাঁরা। একের পর এক মাওবাদী নেতা-নেত্রী গ্রেফতার, যৌথ বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু, আত্মসমর্পণের পরেও পার্টি ছাড়ার কথা ভাবতে পারেননি শকুন্তলা।

    কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর মাওবাদ শূন্য করার লক্ষ্যমাত্রার পরেও বঙ্গ ব্রিগেডের ৭ জন কমান্ডার অক্ষত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এই শকুন্তলা রয়েছেন। তাই সারান্ডা ছাড়া হতেই তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছে বাংলা-ঝাড়খণ্ড পুলিশ।
  • Link to this news (প্রতিদিন)