বেআইনি উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল নদিয়ার কৃষ্ণনগর রেল স্টেশন চত্বর। অভিযোগ, বুলডোজ়ার দেখেই পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু করে দেন স্থানীয় হকাররা। বিক্ষোভ দেখান বামপন্থী কর্মী-সমর্থকদের একাংশও। তবে শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান আটকানো যায়নি। মঙ্গলবার গভীর রাতে স্টেশন চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ ভাবে গড়িয়ে ওঠা সমস্ত দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল রেল পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল বাহিনী।
পুলিশ ও স্থানীয় হকারদের সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতেই স্টেশনে বেআইনি ভাবে গড়ে ওঠে সমস্ত দোকান, স্টলে নোটিস পাঠিয়েছিল রেল কর্তৃপক্ষ। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিল, ১৬ জুনের মধ্যে সবাইকে সরে যেতে হবে। কিন্তু অভিযোগ, দোকান সরিয়ে নেওয়ার বদলে বিক্ষোভ নামেন হকার সংগঠন, সিটু, এসইউসিআই এবং বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলি। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। এ দিন রাতে নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী কৃষ্ণনগর স্টেশনে হাজির হয় রেল ও রাজ্য পুলিশের বিশাল বাহিনী। শুরু হয় অভিযান।
প্রথমেই মাইকিং করে সমস্ত হকারদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন রেল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু উল্টে বিপত্তি বাঁধে। অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন স্থানীয় হকাররা। ঘটনাস্থলে চলে আসে বামপন্থী কর্মী-সমর্থকরাও। ‘বুলডোজ়ার দূর হটাও’ স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। পুলিশ বাধা দিলে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ‘বলপ্রয়োগ করে আমাদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।’ আন্দোলনকারী মহিলাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও তোলেন তাঁরা। তবে এই নিয়ে রেল বা রাজ্য পুলিশের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বিক্ষোভকারীরা সরে যাওয়ার পরেই স্টেশন চত্বরে নামে বুলডোজ়ার। শুরু হয় ‘অ্যাকশন’। একের পর এক দোকান, স্টল, গুমটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। কৃষ্ণনগর স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেও একাধিক অবৈধ দোকান ছিল বলে অভিযোগ। সেগুলিও সরিয়ে দেওয়া হয়। স্টেশনের বাইরে রেলের জমিতে গজ়িয়ে ওঠা দোকানও বাদ যায়নি। এই সময়ে সিটুর একটি স্থানীয় কার্যালয়ও ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খালি হয়ে যায় পুরো এলাকা।
অভিযান শেষে রেল ও রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয় হকাররা। তাঁদের অভিযোগ, পুনর্বাসন না দিয়ে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবন জীবিকা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্য দিকে, রেল সূত্রে দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দখল হয়ে থাকা সম্পত্তি উদ্ধার এবং যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এর আগে হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনের পাশাপাশি দমদম, হাবড়া এবং যাদবপুরেও অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রেল। তবে স্টেশন চত্বর থেকে অবৈধ দোকান সরিয়ে দেওয়ায় খুশি যাত্রীদের একাংশ। তাঁদের মতে, এর ফলে হকারদের দৌরাত্ম কিছুটা হলেও কমবে। স্টেশন চত্বর আরও খোলামেলা হবে। ব্যস্ত সময়ে চলাফেরায় সমস্যা হবে না।