• দিঘা উপকূলে উন্নয়নের মেগা প্ল্যান সরকারের! আমজনতার জীবনে আমূল বদলের অপেক্ষা, কী হতে চলেছে জানুন
    News18 বাংলা | ১৭ জুন ২০২৬
  • : প্রকৃতির অমোঘ টান আর সমুদ্রের গর্জন, এই নিয়েই গড়ে উঠেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার উপকূলবর্তী মানুষের জীবন। তবে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেই আটকে নেই এই অঞ্চল। এবার এক বিশাল গুণগত পরিবর্তনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার জনজীবন। রাজ্য সরকারের এক দূরদর্শী সিদ্ধান্তের হাত ধরে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মানচিত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে চলেছে। মূলত, দিঘা ও তার আশেপাশের উপকূলীয় অঞ্চলকে আরও সুপরিকল্পিত এবং আধুনিক করে তুলতে ‘দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ’ (DSDA)-এর আওতাধীন এলাকা সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।

    এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল, পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মানকে এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়া। পর্ষদের এলাকা বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় অর্থনীতি এবং পরিকাঠামোয় ব্যাপক জোয়ার আনবে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের রোজকার জীবনে। এলাকা সম্প্রসারণের ফলে নতুন নতুন হোটেল, রিসর্ট, হোমস্টে এবং পর্যটন-বান্ধব ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে মৎস্যজীবী এবং স্থানীয় যুবকদের শুধু সমুদ্রের উপর নির্ভর করে থাকতে হবে না, তৈরি হবে বিকল্প ও স্থায়ী উপার্জনের পথ।

    নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া এলাকাগুলোতে উন্নত রাস্তাঘাট, আধুনিক নিকাশি ব্যবস্থা এবং নিরবচ্ছিন্ন পানীয় জলের জোগান নিশ্চিত করা হবে। গ্রামীণ উপকূলীয় এলাকাগুলো শহরের সুযোগ-সুবিধার ছোঁয়া পাবে। সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা হওয়ায় ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মত প্রাকৃতিক বিপর্যয় এখানে নিত্যসঙ্গী। উন্নয়ন পর্ষদের অধীনে আসায় গার্ডওয়াল নির্মাণ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উপকূল সুরক্ষার কাজ আরও গতি পাবে, যা স্থানীয় মানুষের জীবন ও সম্পত্তিকে সুরক্ষিত করবে। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লে হস্তশিল্প, স্থানীয় পরিবহণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের রোজগার বাড়বে।

    এ বিষয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানান, “দিঘা শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদের এলাকা বাড়ছে। সমুদ্র উপকূলবর্তী কয়েকটি মৌজা দিঘা শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদের আওতায় আসছে।” অন্যদিকে রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল জানিয়েছেন, “রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার উপকূলবর্তী এলাকার উন্নয়নের নজর দিয়েছে। সরকারের নির্দেশে তাই দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের এই সম্প্রসারণ কেবল পর্যটনকে চাঙ্গা করবে না, বরং এটি উপকূলের পিছিয়ে পড়া গ্রামগুলোর অর্থনীতিকে চাঙা করতে তুলতে সাহায্য করবে। যোগাযোগের আধুনিকীকরণ ঘটবে দ্রুত গতিতে। দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের এই পরিকল্পনা সমুদ্রের পাড়ে এবার শুধু পর্যটনের ঢেউ নয়, আছড়ে পড়তে চলেছে অর্থনৈতিক নতুন জোয়ার।”
  • Link to this news (News18 বাংলা)