এই সময়: জন্মদিনের কেক কাটার আনন্দের মুহূর্ত যে এমন এক দুঃস্বপ্নে বদলে যাবে, তা ভাবতেও পারেনি থানের এক পরিবার। সম্প্রতি তিন বছরের শিশু রেয়াংশের জন্মদিনের কেকের সাজসজ্জার ভিতরে থাকা দু’টি ধারালো ধাতব তারের টুকরো অজান্তেই গিলে ফেলে ওই শিশু। জন্মদিনের উৎসব বদলে যায় হাসপাতালবাসের উৎকণ্ঠায়। মহারাষ্ট্রের এই চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নড়েচড়ে বসল দেশের শীর্ষ খাদ্যসুরক্ষা নিয়ামক সংস্থা ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ (ফ্যাসাই)। দেশজুড়ে সব রকমের খাদ্যসামগ্রী এবং তা প্যাকেটজাত করার ক্ষেত্রে ধাতব স্টেপল পিন, ধাতব তার বা এই জাতীয় সামগ্রীর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফ্যাসাই।
শুক্রবার এ বিষয়ে একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ফ্যাসাই সতর্ক করেছে প্যাকেজিংয়ের স্টেপল পিন, খাবারের টপিংয়ে ধাতব তারের ব্যবহার নিয়ে। অর্থাৎ, কোনও খাদ্যসামগ্রী বা খাবারের প্যাকেট সিল করার জন্য ধাতব স্টেপল পিনের ব্যবহার আর করা যাবে না। তেমনই মিষ্টির বাক্স, বেকারির পণ্য, স্ন্যাক্স বা চিপসের প্যাকেট এবং রেস্তোরাঁ থেকে খাবার নিয়ে যাওয়ার (টেক–অ্যাওয়ে পার্সেল) প্যাকেজিংয়ে কোনও রকমের ধাতব তার বা ক্লিপ ব্যবহার করা যাবে না। পরিবর্তে ব্যবহার করতে হবে নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা। হিট-সিলড প্যাকেজিং, আঠালো সিল বা টেপের মতো নিরাপদ খাদ্যবান্ধব পদ্ধতি ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছে ফ্যাসাই।
নিয়ম না মানলে কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে ফ্যাসাইয়ের তরফে। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, খাবারের প্যাকেটে বা কেকের মতো সামগ্রীতে ধাতব পিন বা তার ব্যবহার করলে অজান্তেই তা মানুষের পেটে চলে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি থাকে। এর ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গে গুরুতর আঘাত এবং রক্তক্ষরণ হতে পারে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই খাদ্যসুরক্ষার নিয়ামক সংস্থা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। কেউ এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে, তার বিরুদ্ধে ২০০৬–এর ‘খাদ্য সুরক্ষা ও মানক আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি এবং দণ্ডনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খাদ্য সুরক্ষা কমিশনারদের এই নির্দেশিকা এখনই কঠোর ভাবে জারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।