• নেহরুর ইন্ডিয়া থেকে মোদীজির ভারত: হরদীপ সিং পুরি
    এই সময় | ১৭ জুন ২০২৬
  • হরদীপ সিং পুরি

    গত ১০ জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্ব পালন করে নজির গড়েছেন। তবে মোদীজি দীর্ঘ সময়ে ক্ষমতায় থাকার কারণ তাঁর কাজে নিহিত রয়েছে।

    ১৯৫২–এ প্রথম সরকারের প্রধান হিসেবে কাজে শুরু করেন নেহরুজি। ১৯৬৪ পর্যন্ত আমৃত্যু প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন। তবে ১৯৪৭ থেকে ধরলে সব থেকে বেশি দিন প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড এখনও নেহরুর দখলেই রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মোদীজি প্রধানমন্ত্রী পদে টানা ক্ষমতায় থাকার ক্ষেত্রে নেহরুকে ছাপিয়ে গিয়েছেন। দীনদয়াল উপাধ্যায় বলেছিলেন, 'একটা সরকার কী করল তার পরিমাপ হবে প্রান্তিক মানুষ অর্থাৎ অন্ত্যোদয়ের কাছে কতটা পৌঁছল, তাই দিয়ে। প্রান্তিক মানুষকে পণ্ডিত নেহরুর ইন্ডিয়া থেকে মোদীজির ভারত পর্যন্ত দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়েছে।'

    পণ্ডিত নেহরু উত্তরাধিকার সূত্রে বিভক্ত উপমহাদেশ পেয়েছিলেন, যেখানে ইতিহাসের বৃহত্তম বাধ্যতামূলক অভিবাসন ঘটেছিল। ২০০ বছরের সাম্রাজ্যবাদী শোষণে রিক্ত ছিল অর্থনীতি। দেশের মাত্র এক পঞ্চমাংশ মানুষ সাক্ষর ছিলেন, তাদের গড় আয়ু ছিল ৩০ বছর। সেখান থেকে তিনি সাংবিধানিক গণতন্ত্র স্থাপন করেন। পরিকল্পনা কমিশন গড়েন। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার, পারমাণবিক ও মহাকাশ কর্মসূচি, ইস্পাত নগর, গড়ে তোলেন।

    একই ভাবে ২০১৪–এ মোদীজি পেয়েছিলেন এমন এক অর্থনীতি, যাকে 'ফ্র্যাজাইল ফাইভ'–এর অন্যতম বলা হতো। বকেয়া প্রকল্প, দুই অঙ্কের মুদ্রাস্ফীতির হার এবং সর্বব্যাপী দুর্নীতিতে জর্জরিত দেশ। মোদীজি অন্য ভাবে এর মোকাবিলা করেন। পরিকল্পনা কমিশনের জায়গায় নীতি আয়োগ গড়ে তোলেন। এতে রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধন হয়। পরিচয়, একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং একটি মোবাইল ফোন- এই তিনের সাহায্যে সরকার সরাসরি নাগরিকদের কাছে সুবিধা পৌঁছাচ্ছে। মধ্যস্বত্বভোগী নির্মূল করা হলো। ভারত জন ডিজিটাল কাঠামো গড়ে তোলা হলো। ৫০ কোটিরও বেশি গরিব মানুষের জনধন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ব্যাঙ্কিংয়ের সঙ্গে জুড়লেন।

    ২০৩০–এর আগেই পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণের হার এখন ২০ শতাংশে পৌঁছেছে। অপরিশোধিত তেল দেশের কৃষকদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে ১০ কোটিরও বেশি দরিদ্র পরিবার রান্নার গ্যাস পাচ্ছে। ভর্তুকিও সরাসরি প্রাপকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাচ্ছে। গৃহহীন পরিবার প্রায় ৪ কোটি পাকা পেয়েছে। এখন ২০টি শহরে মেট্রো চলে। বিমান বন্দরের সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে। উড়ান প্রকল্প, বিমান ভ্রমণকে প্রত্যেকের সাধ্যের মধ্যে নিয়ে এসেছে। প্রথম দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি সেমি হাইস্পিড ট্রেন চলছে। দেশের মানুষ দেখতে পারছেন যে, আজ আর লাইন দিতে হচ্ছে না, যাতায়াতে সারাদিন নষ্ট করতে হচ্ছে না, মাথার উপরে ছাদ অটুট রয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)