• ফরাক্কায় পর পর দু’টি বাড়িতে হানা চোরদের! উধাও ২০ ভরি সোনা, কয়েক লক্ষ নগদ,মাথায় হাত গৃহকর্তাদের
    News18 বাংলা | ১৭ জুন ২০২৬
  • : চিকিৎসার প্রয়োজনে দু’টি পরিবারের সদস্যদের বাইরে থাকার সুযোগে ফরাক্কার দু’টি পৃথক বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুই পরিবারের অভিযোগ, আলমারির লকার ভেঙে মোট প্রায় ২০ ভরি সোনার গহনা, নগদ ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা এবং বিপুল পরিমাণ কাঁসা-পিতলের বাসনপত্র নিয়ে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। বর্তমান বাজারদরে চুরি যাওয়া সোনা ও নগদ মিলিয়ে মোট ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা বলে জানা যায়। একই দিনে পরপর দু’টি চুরির ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিন্দুগ্রাম সৎগোপ পাড়ার বাসিন্দা মানবেন্দ্র ঘোষ ওরফে আশীষ ঘোষ গত রবিবার সপরিবারে চিকিৎসার জন্য বহরমপুরে গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ফোনে জানতে পারেন তাঁর বাড়ির তালা ভাঙা। তড়িঘড়ি বাড়ি ফিরে তিনি দেখেন, সদর দরজা থেকে শুরু করে ঘরের আলমারি ও লকার মিলিয়ে প্রায় ২০টি তালা ভেঙেছে দুষ্কৃতীরা। লকারে থাকা প্রায় ১৫ থেকে ১৮ ভরি সোনার অলংকার, চিকিৎসার জন্য রাখা নগদ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৫০ কেজি কাঁসা ও পিতলের বাসনপত্র চুরি গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে ফরাক্কা থানায় এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন গৃহকর্তা।

    অন্যদিকে, একই দিনে জাফরগঞ্জের বাসিন্দা কুলেশ চন্দ্র ঘোষ ওরফে বানু ঘোষের বাড়িতেও একই কায়দায় চুরি হয়। তিনিও চিকিৎসার কারণে বাইরে থাকায় বাড়িটি ফাঁকা ছিল। মঙ্গলবার ভোরে তাঁর এক ভাইপো বাপ্পা ঘোষ লক্ষ্য করেন কাকার ঘরের জানালা ভাঙা। বাপ্পা ঘোষ জানান, ঘরে ঢুকে দেখা যায় ঘরের মধ্যে সব কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে আর আলমারি খোলা অবস্থায় আছে। বাড়িতে সাড়ে তিন ভরি ওজনের দুটি সোনার চেন, আট আনার একটি আংটি, দু-জোড়া সোনার কানের দুল, নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং প্রায় ৫০ পিস কাঁসা-পিতলের বাসনপত্র খোয়া গেছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন বেশ কয়েকদিন ধরে স্থানীয় দুই যুবক সহ বেশ কয়েকজনের এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ চালাছে। তাদের বিরুদ্ধে ফরাক্কা থানায় সন্দেহ প্রকাশ করে লিখতে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্ত যুবকেরা বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় মদ্যপান, জুয়ার আড্ডা ও বিভিন্ন সমাজবিরোধী কাজকর্ম চালাচ্ছে। এদের এই ঘটনার পিছনে হাত থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ​খবর পেয়েই ফরাক্কা থানার পুলিশ দু’টি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়।

    পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, দু’টি পরিবারের তরফেই লিখিত অভিযোগ জমা নেওয়া হয়েছে। বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়েই যে দুষ্কৃতীরা এই কাজ করেছে, তা প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খোঁজে এবং চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধারে ইতিমধ্যেই জোরদার তদন্ত শুরু করেছে ফরাক্কা থানার পুলিশ।
  • Link to this news (News18 বাংলা)