রূপক মজুমদার, বর্ধমান
আগে থেকেই সরকারি নিয়ম রয়েছে, বালিঘাট থেকে ডাম্পার বা লরি বা ট্র্যাক্টরে বালি কোথাও পাঠানোর সময়ে তার ইজারাদারকে চালকের হাতে দিতে হয় চালান। তাতে বালির পরিমাণের সঙ্গে লেখা থাকে রওনা হওয়ার সময় ও গন্তব্যের দূরত্বের ভিত্তিতে তা বৈধ থাকার সময়সীমা। আবার বালি যেখানেই পাঠানো হোক না কেন, ব্যক্তিগত জমির উপর দিয়ে নিয়ে যেতে হলে সেই জমির মালিকের নো অবজেকশন সার্টিফিকেটও লাগবে বলে ইতিমধ্যে নির্দেশ জারি করেছে প্রশাসন। কিন্তু তার পরেও ইজারাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে অবৈধ কারবার চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বালি–মাফিয়ারা।
কী ভাবে? প্রথমত, একটি ডাম্পার বা লরিতে যে পরিমাণ বালি ধরতে পারে, বালিঘাটের চালানে লেখা হচ্ছে তার থেকে কম পরিমাণ। যেমন, একটি ডাম্পারে সর্বাধিক ৬০০ সিএফটি বালি ধরে। ততটাই লোড করা হলো। চালানে লেখা হলো ৪০০ সিএফটি। এ বার রাস্তায় বালি–মাফিয়াদের ঠিক করা জায়গায় চালানের বাইরের ২০০ সিএফটি বালি নামিয়ে দেওয়া হয়। চড়া দামে সেই বালি বিক্রি করে মাফিয়ারা। দ্বিতীয়ত, অনেকটা দূরত্বের গন্তব্য দেখিয়ে চালানে লম্বা সময়সীমা লেখা হচ্ছে। তার মধ্যে কাছাকাছি কোথাও বালি নামিয়ে নিচ্ছে অবৈধ কারবারিরা। খালি গাড়ি ফিরছে বালিঘাটে। আবার বালি ভরে রওনা দিচ্ছে। সে বারও চালানে লেখা গন্তব্যেই বালি পৌঁছল কি না, তা জানার ব্যবস্থা নেই। এক চালানে বালিঘাট থেকে দ্বিতীয় বার তোলা বালিও অনেক সময়ে মাঝপথে নামিয়ে নেয় মাফিয়ারা।
শনিবার গভীর রাতে বালির এমনই এক অবৈধ কারবার ধরা পড়েছিল পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি থানা এলাকায়। সেখানে জাতীয় সড়কের ধারে ডব্লিউবি ২৫ এল ৪২৫৬ নম্বরের একটি লরি থেকে বালি নামানো হচ্ছিল। লরিটির বিরুদ্ধে জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর ও পরিবহণ দপ্তর ইতিমধ্যেই কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে। সূত্রের খবর, এই লরিতে বালি লোড করা হয়েছিল বাঁকুড়া জেলার সোনামুখী এলাকায়। চালানে লেখা ছিল, ১৩ জুন (শনিবার) দুপুর ১টা ৪৭ মিনিটে বাঁকুড়ার সোনামুখী এলাকা থেকে বালি নিয়ে লরিটি রওনা দিয়েছিল। গন্তব্য লেখা ছিল কলকাতার নর্থ পোর্ট থানা এলাকা, সময়সীমা ধার্য করা ছিল ১২ ঘণ্টা। তার মধ্যে রাস্তায় প্রশাসন লরিটি আটক করলেও আইনগত ভাবে কিছু করার ছিল না। এই সুযোগকেই কাজে লাগানো হয়েছে শনিবার রাতে।
ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের এক আধিকারিক বলেছেন, ‘বালি মাফিয়ারা একটা চালানে এই যে ১২ ঘণ্টা সময় নিয়ে রাখছে, এটা নতুন পদ্ধতি। এই সময়ের মধ্যে দু’বার বালিঘাট থেকে বালি তুলে নিয়ে আসা হচ্ছে। আর তা বিক্রি করা হচ্ছে চড়া দরে।’ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের ডিএলআরআরও এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে যতটা কঠোর মনোভাব নিয়েছে, ততটাই উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে বাঁকুড়া এলাকায়। সেখানে এখনও একই সরকারি নিয়মে বহু শিথিলতা। কেন, উঠেছে প্রশ্ন। (চলবে)