আরজি করে ধর্ষণ-খুনের ঘটনার তদন্তে দিন দুয়েক আগেই হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছিল সিবিআই। এ বার তদন্তকারীরা গেলেন পাটিহাটির শ্মশান ঘাটে। সূত্রের খবর, ঘটনার দিন সেখানে কী হয়েছিল, তা-ই জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
নির্যাতিতার পরিবারের দাবিগুলি খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত আরও জানিয়েছে, সিবিআইকে পুনরায় ঘটনাস্থলে যেতে হবে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে হবে। সব তথ্য এবং নথি খতিয়ে দেখতে হবে। তা মেনেই আবার তদন্ত শুরু হয়েছে। গত সোমবার আরজি কর হাসপাতালে গিয়েছিলেন সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা। বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করেন তাঁরা। পরে হাসপাতালের বর্তমান আধিকারিক, চিকিৎসক এবং নির্যাতিতার কয়েক জন সহকর্মীর সঙ্গেও কথা বলেন। তার পরে এ বার শ্মশানে গেলেন তদন্তকারীরা।
পানিহাটির শ্মশানে নির্যাতিতার দেহ দাহ করা হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতিতার দেহ ‘তড়িঘড়ি’ দাহ করার জন্য সেই রাতে ‘চাপ’ সৃষ্টি করা হয়েছিল তাদের উপর। মূলত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল মাজি এবং পানিহাটির কাকু বলে পরিচিত সঞ্জীব মুুখোপাধ্যায়দের বিরুদ্ধেই চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছিল। সম্প্রতি তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতেরও দ্বারস্থ হয়েছিল নির্যাতিতার পরিবার। কিন্তু সিবিআই আদালতে জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাদের কাছে কোনও প্রমাণ নেই।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার কক্ষ থেকে চিকিৎসক-পড়ুয়া ওই তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল। প্রথমে কলকাতা পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও পরে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় সিবিআই-কে। ওই ঘটনায় সঞ্জয় রায় নামে মূল অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে আজীবন কারাবাসের সাজা দেয় নিম্ন আদালত। সম্প্রতি নির্যাতিতার পরিবারের তরফে সিবিআইয়ের তদন্তে একাধিক গাফিলতির বিষয় তুলে ধরে ঘটনার পুনর্তদন্তের আবেদন করা হয়েছিল হাইকোর্টে। যার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সিবিআই-কে সিট গঠন করে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেয়।