ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী ভাটগাঁও (গলগালিয়া) সীমান্ত বাজারে মঙ্গলবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাত প্রায় ৯টা ৩৫ মিনিট নাগাদ আচমকাই আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায় বাজারের একটি দোকান থেকে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাণভয়ে দোকান ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা নূর আলম কুরেশির একটি মুরগির দোকানে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত।
বিস্ফোরণের পর দোকানে মজুত থাকা পেট্রোল আগুনকে আরও ভয়াবহ রূপ দেয়। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুন দ্রুত পাশের দোকানগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় বাজারের অন্তত ছয় থেকে সাতটি দোকান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু ব্যবসায়ীর বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা পুঁজি ও মালপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই নিকটবর্তী ৪১তম ব্যাটালিয়ন এসএসবির ভাটগাঁও কোম্পানি ক্যাম্পের জওয়ানরা আর দেরি না করে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে ছুটে যান। সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, বালি এবং জলের বালতি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এসএসবির জওয়ানরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দারাও তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন। এরপর খবর পেয়ে নেপালের ভদ্রপুর পৌরসভার একটি দমকল ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কাজে যোগ দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিহারের কিশনগঞ্জ জেলার ঠাকুরগঞ্জ এলাকার দমকল বাহিনীর একটি ইঞ্জিনও ঘটনাস্থলে আসে। সীমান্তবর্তী এই এলাকায় ভারত ও নেপালের বিভিন্ন সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ আরও জোরদার হয়। প্রায় ৫০ মিনিটের টানা চেষ্টার পর এসএসবি, দমকল বাহিনী এবং স্থানীয়দের সম্মিলিত উদ্যোগে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
যদিও আগুনে কয়েকটি দোকানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে সময়মতো উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ায় আরও বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সবচেয়ে স্বস্তির খবর, এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কোনও সাধারণ নাগরিক বা এসএসবি জওয়ানের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ শুরু করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত এলাকার এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড আবারও প্রমাণ করল, জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে সময়মতো উদ্যোগ বহু মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করতে পারে।