• তিস্তা চরে রোজ আসছে হাতির দল, পর্যটকদের পোয়াবারো! ঘনঘন আগমনের 'সিক্রেট' ফাঁস
    News18 বাংলা | ১৭ জুন ২০২৬
  • এই এক কারণেই জঙ্গলের পথ ছেড়ে তিস্তার চরে হাতির আনাগোনা বাড়ছে। বিশেষ ঘাসের টানেই প্রতিদিন তিস্তার চরে হাজির গজরাজ। তিস্তার চর এখন হয়ে উঠেছে ‘হাতির স্বর্গ’! হোগলা-ভাবনির টানে প্রতিদিন আগমন হচ্ছে গজরাজের। জঙ্গলে নয়, এখন তিস্তার চরেই যেন গড়ে উঠেছে হাতিদের নতুন ঠিকানা। জলপাইগুড়ির বোদাগঞ্জ ও রংধামালি সংলগ্ন তিস্তা চর এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই দেখা মিলছে বুনো হাতির পালের।

    বিকেল নামলেই শুরু হচ্ছে এক অন্যরকম দৃশ্য। একদিকে গজরাজের আনাগোনা, অন্যদিকে সেই দৃশ্য দেখতে মানুষের ঢল। স্থানীয়দের দাবি, ২০২৩ সালের পর থেকেই তিস্তার বিস্তীর্ণ চর এলাকায় হোগলা ও ভাবনি ঘাসের পরিমাণ চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। পাহাড়ি অঞ্চল থেকে ভেসে আসা বীজ থেকেই স্বাভাবিকভাবে জন্মেছে এই ঘাস। বিশেষ করে হোগলার গাছের নীচের সাদা, নরম ও মিষ্টি অংশ হাতিদের অত্যন্ত প্রিয় খাদ্য।

    সেই লোভেই প্রায় প্রতিদিন চর এলাকায় চলে আসছে হাতির দল। কিন্তু এই ‘প্রাকৃতিক আকর্ষণ’-এর উল্টো ছবিটাও কম উদ্বেগজনক নয়। বর্তমানে তিস্তার চর এলাকায় ব্যাপক হারে সবজি চাষ হচ্ছে। একসময়ের হাতির করিডর এখন কৃষিজমি। ফলে খাদ্যের সন্ধানে হাতিরা চরে নামলেই ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়ছেন কৃষকরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলের দিকে চর এলাকায় এসে হোগলা-ভাবনি খাওয়ার পর হাতিরা তিস্তার জলে নেমে স্নানও করে।

    সেই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে দর্শনার্থীদের। তবে এই আকর্ষণের আড়ালেই বাড়ছে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাতের আশঙ্কা। ‘বন্যেরা বনে সুন্দর’ এই চিরাচরিত প্রবাদ যেন নতুন করে প্রশ্নের মুখে। জঙ্গলে খাদ্যের অভাব, নাকি চরাঞ্চলের বাড়তি আকর্ষণ,কী কারণে এত ঘন ঘন তিস্তার চরে আসছে হাতির দল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা বনপ্রেমী ও স্থানীয় মহলে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)