• ‘মা-বাবা তোমাকে খুব ভালোবাসি...’, NEET-র চার দিন আগে আত্মঘাতী দেরাদুনের স্কুল টপার
    এই সময় | ১৭ জুন ২০২৬
  • চিকিৎসক হওয়াই ছিল স্বপ্ন। NEET বাতিলের জেরে সাংঘাতিক হতাশ হয়েছিলেন তিনি। আবারও প্রথম থেকে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন। NEET Re-Test-র ঠিক চারদিন আগে চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের এক মেধাবী পড়ুয়া। মঙ্গলবার সকালে বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হয় ২৩ বছর বয়সি রিয়া কুমারী থাপার ঝুলন্ত দেহ।

    প্যাটেল নগর এলাকার চন্দ্রামণি কলোনির বাসিন্দা ওই মেধাবী তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি চিরকূট, যেখানে লেখা ছিল— ‘আই লাভ ইউ মাম্মি–পাপা’।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রিয়া পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। বরাবরই স্কুলের পরীক্ষায় ফার্স্ট হতেন তিনি। দ্বাদশের বোর্ড পরীক্ষাতেও নজরকাড়া ৯৭.৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাশ করেন তিনি। দশম শ্রেণির বোর্ডের পরীক্ষায় পাশ করার পর থেকেই NEET-এর জন্য তৈরি হচ্ছিলেন তিনি। এমনকী এই প্রবেশিকা পরীক্ষার ট্রেনিংয়ের বাড়তি খরচ জোগাতে একাধিক টিউশন পড়াতেন তিনি।

    জানা গিয়েছে, রিয়া দু’বার NEET পরীক্ষায় বসেছিলেন। প্রথমবার সফল না হলেও ২০২৬ সালের ৩ মে হওয়া পরীক্ষা নিয়ে তিনি দারুণ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। পরিবার ও পরিচিতদের কাছেও তিনি বলেছিলেন, পরীক্ষা ভালো হয়েছে এবং এ বার তিনি সুযোগ পাবেনই। কিন্তু পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পরে সাংঘাতিক হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। হতাশা সত্ত্বেও ফের পরীক্ষা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন রিয়া। কিন্তু এ বারের প্রস্তুতি নিয়ে একদমই সন্তুষ্ট ছিলেন না ওই পড়ুয়া।

    পরিবারের কথা অনুযায়ী, রিয়া প্রায়ই গভীর রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করতেন। ঘটনার দিন সকালে অনেকক্ষণ দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। খবর যায় পুলিশে।

    স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সাম্প্রতিক পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা ও পুনরায় প্রস্তুতির চাপ নিয়ে মানসিক ভাবে সাংঘাতিক বিব্রত ছিলেন মেধাবী রিয়া। প্রাথমিক অনুমান, ওই তরুণী আত্মঘাতী হয়েছেন, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, নোটে পরিবারের প্রতি ভালোবাসার কথা লেখা ছিল এবং সেখানে অন্য কাউকে সরাসরি দায়ী করা হয়নি।

  • Link to this news (এই সময়)