আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড়সড় ওলটপালটের পর এবার আইনি লড়াই ও অধিকারের জোরদার লড়াই শুরু হতে চলেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ২০ জন বিক্ষুব্ধ লোকসভা সাংসদ দিল্লির দরবারে স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (NCPI) নামে একটি নিবন্ধিত আঞ্চলিক দলের সঙ্গে মিশে যাওয়ার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই নাটকীয় দলবদলের মাঝেই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিলেন কলকাতা উত্তরের বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ ব্যানার্জি। কেন তাঁরা সরাসরি আলাদা কোনও ব্লক তৈরি না করে অন্য একটি দলে মিশে গেলেন, সেই রহস্যও এদিন উন্মোচন করেছেন তিনি।
আইনি জটিলতার কথা মাথায় রেখেই যে এই চাল চালা হয়েছে, তা সুদীপ ব্যানার্জির কথাতেই পরিষ্কার। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী কোনও দলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ বা বিধায়ক একসাথে দল ছাড়লেও, তাঁরা যদি অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত না করেন, তবে দলত্যাগ বিরোধী আইনের (Anti-Defection Law) ফেরে পড়ে যাওয়ার বড় ঝুঁকি থাকে। অর্থাৎ, পদ বাঁচানোর জন্য টেকনিক্যাল কারণেই এই মুহূর্তে অন্য একটি দলে মিশে যেতে হয়েছে। সুদীপের যুক্তি, যখন কেউ দলের দুই-তৃতীয়াংশ শক্তি নিয়ে বের হয়ে আসেন, তখন সেটাকে আর 'দলত্যাগ' বলা চলে না। তবে প্রথম দিনই মূল দলের নাম বা প্রতীকের ওপর দাবিদাওয়া পেশ করা যায় না, এটাই নিয়ম।
কিন্তু আসল খেলাটা শুরু হতে চলেছে আগামী জুলাই মাসে, যখন সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। সুদীপ ব্যানার্জি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছেন যে, আগামী ২০ জুলাই যখন লোকসভা খুলবে, তখন স্পিকারের কাছে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি জানাবেন যে, তাঁরাই আসলে মূল তৃণমূল কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য এবং তাঁরাই প্রকৃত দল। ফলে ঘাসফুল শিবিরের লোগো, প্রতীক এবং যাবতীয় পরিচয়ের আসল দাবিদার যে তাঁরাই হতে চলেছেন, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট করে দিয়েছেন বর্ষীয়ান এই নেতা। তিনি আরও যোগ করেন যে, বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই আইনি লড়াই এবং আদালতের দরজায় পৌঁছাবে, আর সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। সব মিলিয়ে, দুই-তৃতীয়াংশের এই দলবদলে সাংসদ পদ বাঁচানোর পাশাপাশি মূল দলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার এক সুদূরপ্রসারী মাস্টারপ্ল্যান কষেছেন সুদীপ ও তাঁর সহযোগী বিক্ষুব্ধ সাংসদেরা।