• TMC নেতাদের 'ডিম থেরাপি', CPIM কী বলছে? bangla.aajtak.in-এ মুখ খুললেন মোস্তাফিজুর সহ ৫ নেতা
    আজ তক | ১৭ জুন ২০২৬
  • বাংলায় পালাবদলের পরই চালু প্রতিবাদের এক নয়া ট্রেন্ড। তৃণমূল নেতাদের দিকে ধেয়ে আসছে একের পর এক ডিম। সাধারণ কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত সদস্য থেকে শুরু করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষের মতো হেভিওয়েট নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হচ্ছে। সঙ্গে উঠছে চোর চোর স্লোগান। আর বাংলার রাজনীতির নয়া এই ট্রেন্ডকে 'ডিম থেরাপি' বলেও রসিকতা করছেন অনেকে। 

    যদিও এই প্রসঙ্গে প্রায় নির্বিকার শাসকদল বিজেপি। এই দলের অনেক নেতাই এই ডিম ছোড়ার ঘটনাকে স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষ বলে মনে করছেন। এমনকী দুই একটা ক্ষেত্র বাদে পুলিশ প্রশাসনও ডিম ছোড়ার ঘটনায় কড়া অ্যাকশন নেয়নি বলে অভিযোগ। 

    কিন্তু প্রশ্ন হল, বাংলার রাজনীতির নতুন আমদানি এহেন 'ডিম থেরাপিকে' ঠিক কী চোখে দেখছে সিপিআইএম-এর তরুণ তুর্কিরা? তৃণমূল নেতাদের দিকে ডিম উড়ে আসায় তাঁরা খুশি না অখুশি? শাসকের ভূমিকাতেও কি তাঁরা সন্তুষ্ট? bangla.aajtak.in খবর নিল। 

    কী বলছেন একমাত্র বাম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান?
    এই প্রসঙ্গে সিপিআইএম নেতা বলেন, 'ডিম ছোড়া বা কোমরে দড়ি বেঁধে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ানো, এটা কখনওই বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কাম্য নয়। নতুন সরকার যেখানে বারবার বলছে আইনের শাসন শুরু হয়েছে, সেখানে দাঁড়িয়ে এটা আইনের শাসন বলে না। হেফাজতে নেওয়া আসামিকে বা অপরাধীকে পাবলিক ডিম ছুড়ে মারবে বা ডিমের জায়গায় অন্য যে কোনও কিছু ছুড়ে মারবে, সেটা কখনওই কাম্য না। আইনের শাসন এটাকে বলে না। কিন্তু দুর্ভাগ্য এটাই যে তৃণমূল নেতারা গত ১৫ বছরে মানুষের সঙ্গে যে অত্যাচার করেছে, যে অবিচার করেছে, যে অন্যায় করেছে, তাতে মানুষও আজকে বায়াসড হয়ে গিয়েছে। যার ফলে এই ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এটা আমি চাইব নতুন সরকার যেহেতু আইনের শাসন বলছে, তাই এই ধরনের সংস্কৃতি বাংলার রাজনীতিতে না নিয়ে আসাই ভালো।' 

    এটা কি জনরোষ? এই প্রসঙ্গে মোস্তাফিজুরের দাবি, 'জনরোষের কথাটা একসময় আমরা তৃণমূলের নেতাদের মুখেও শুনেছি। ক্ষমতা চিরস্থায়ী না। ৩৪ বছর বামফ্রন্ট ছিল। তারপর হেরেছে। তৃণমূল মনে করেছিল আর পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাদের কেউ হারাতে পারবে না। জনতা জনার্দন এখন বিজেপিকে রায় দিয়েছে। কিন্তু জনরোষ বলে সবকিছুকে চালিয়ে দেওয়া, এই সংস্কৃতি চালু— যেটা তৃণমূল করেছিল, সেটা ঠিক নয়। আমি বিজেপির নতুন সরকারের কাছে অনুরোধ করব এটা না হওয়াটাই বাঞ্ছনীয় রাজনীতিতে।'

    কলতান দাশগুপ্তের কী মত?
    মোস্তাফিজুরের সুরেই বললেন কলতান। তাঁর কথায়, 'সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে বিজেপি এই পথে চালনার চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষ যে তৃণমূলের নেতাদের চুরি, চিটিংবাজির উপর ভীষণভাবে বিক্ষুব্ধ, সে তো বিজেপি জানে। কিন্তু এভাবে যে মব লিঞ্চিংকে গোটা পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতির মধ্যে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, এটা কোনও কাজের কাজ হচ্ছে না। কারণ যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, যাদের বিরুদ্ধে এত জনক্ষোভ, সেটাকে আইন, আদালত, পুলিশ এর আওতায় এনে দোষীদের চরম শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। তার বদলে কাউকে ডিম ছুড়ে বা কাউকে ওই দড়ি বেঁধে ঘুরিয়ে মানুষের ক্ষোভকে প্রশমিত করার চেষ্টা— এইটা কোনও কাজের কথা নয়।'

    সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় কী বলছেন?
    এই নয়া ট্রেন্ডের জন্য বিজেপি এবং তৃণমূলকে একযোগে আক্রমণ করলেন সায়ন। তাঁর অভিযোগ, 'তৃণমূলের আমলে রাজনৈতিক সৌজন্য, রাজনৈতিক পারস্পরিক বোঝাপড়া ও গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো— এই সবকিছু সাঙ্গ হয়েছিল। এখন বিজেপি সেই লেগাসিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। পশ্চিমবঙ্গের বুকে সিপিআইএমের প্রাক্তন বিধায়ক ধীরেন লেটকে অনুব্রত মণ্ডলের ছোট ছোট গুন্ডাবাহিনীরা সিপিআইএম করব না বলিয়ে কান ধরে উঠবস করিয়েছিল। হাজারে হাজারে শহিদের লাশ কুড়িয়েছি আমরা। খুন হয়েছে। আসলে পশ্চিমবঙ্গের বুকে তৃণমূল আর বিজেপি গোডাউন একটাই, আর দুটো শোরুম। যাদের জেলে থাকবার কথা ছিল তারা নতুন দল করে গিয়ে এখন বিজেপিকে সমর্থন জানাচ্ছে, আর বাকিরা দেখছি এক-দুটো ডিমের বাড়ি খাচ্ছে।' 

    তাঁর মতে, বাংলার বুকে সঠিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিসর ফেরাতে চাইলে বামেদেরই ক্ষমতায় আনতে হবে। তাহলেই রাজনৈতিক সৌজন্য, শালীনতা থাকবে।

    জনরোষ নিয়ে কী বললেন ময়ূখ বিশ্বাস?
    তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে বিরাট জনরোষ রয়েছে বলে মনে করছেন ময়ূখ। তিনি বলেন, 'ভীষণ তীব্র জনরোষ আছড়ে পড়েছে তৃণমূল নেতাদের ওপর। যেখানেই তারা যাচ্ছে না কেন, মানুষের এই জনরোষ আছড়ে পড়ছে।'
    তবে এরপরই বিজেপিকে দুষেছেন তিনি। তাঁর কথায়, 'আমরা এটাও দেখছি, আবার সেই তৃণমূল নেতাদেরই সাদরে রেড কার্পেট বিছিয়ে বিজেপি একদম নিজের দলে জামাই আদর করে নিয়ে যাচ্ছে। সর্বত্র হচ্ছে। আবার দেখছি ভায়োলেন্স কোনও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে। এটা কখনওই কাম্য নয়।' 

    তিনি আরও বলেন, 'পরে যেটা হবে, অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যে ঘটনা সাজিয়ে এই মব লিঞ্চিংকেও মান্যতা দিতে হবে। এটা তালিবানের সংস্কৃতি। পাকিস্তান, বাংলাদেশে এই সমস্ত হামেশাই হয়ে থাকে। কিন্তু এখন এখানে দেখছি। আসলে অপরাধী, চোর, গরিবের রক্তচোষাদের অবশ্যই কঠোর শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সেটা দিতে গিয়ে আরেকটা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে বিপদ।'

    সপ্তর্ষি দেবের কী দাবি?
    এই বাম নেতাও শালীনতার প্রশ্নই তুললেন। তিনি বলেন, 'যে কোনও পরিণত গণতন্ত্রে প্রতিবাদ করার অধিকার সকলের আছে। কিন্তু সেই প্রতিবাদ করার মধ্যেও যেন মানে শালীনতা থাকে। এটা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ডিম ছোড়া, পা ছোড়া— এটার ব্যাপার নয়। ব্যাপারটা হচ্ছে যে এটা কি শালীনতার গণ্ডি পার করে যাচ্ছে? এই প্রতিবাদ কি ভারতবাসীর রাজনৈতিক পরিধিতে একটা স্বীকৃত প্রতিবাদের মাধ্যম? একটা রাজনৈতিক দল অন্য রাজনৈতিক দলের দিকে ডিম ছুড়েছে, এর আগে কখনও পশ্চিমবঙ্গে বা ভারতবর্ষে এটা কি হয়েছে? যদি সেটা হতো, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু আমরা তো এটা দেখিনি। তৃণমূল চুরি করেছে, মানুষের ক্ষোভ রয়েছে। কিন্তু সেই ক্ষোভে মানুষ অনেক আশ্বস্ত হবে, স্বস্তি পাবে যখন এই তৃণমূলের নেতারা যারা চুরি করেছে, দুর্নীতি করেছে, তারা শাস্তি পাবে। জেলে যাবে। কিন্তু আমরা তো দেখছি বিজেপি তাদেরকে আদরে নিজেদের সেন্টারে নিয়ে চলে আসছে। তাদেরকে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়াচ্ছে। তৃণমূলের বিধানসভার দল ভাঙিয়ে বিজেপির সেন্টারে নিয়ে আসছে। সুতরাং একদিকে তৃণমূলের চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদেরকে তারা তাদের ডানার তলায় নিয়ে আসছে। তাদেরকে প্রোটেকশন দিচ্ছে। আর অন্যদিকে রাস্তায় ডিম ছোড়া হচ্ছে। এই দুটো একসঙ্গে যায় না।'
     

     
  • Link to this news (আজ তক)