মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে গিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে গিয়ে তিনি সরাসরি চলে যান আফার্ম সেকশনে। সেখানে তৃণমূল সুপ্রিমো ইলেকশন পিটিশন মামলার নথিতে স্বাক্ষর করেন। চলতি সপ্তাহে বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের এজলাসে ইলেকশন পিটিশন মামলার শুনানি হতে পারে বলে আদালত সূত্রে খবর। বিধানসভা নির্বাচনে ভোট লুঠ করে তাঁকে হারানো হয়েছে বলে অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাই নিয়েই মামলা করতে এসেছিলেন। বুধবার এই ঘটনাকে নিয়ে কড়া ভাষায় খোঁচা দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
এদিকে কলকাতা হাইকোর্ট সূত্রে খবর, ২০২৬ সালে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেরে গিয়েছিলেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই হার স্বীকার করে নিতে পারেননি। আর তার জন্যই তিনি সরাসরি রাজ্যের উচ্চ ন্যায়ালয়ের দ্বারস্থ হন। সকলের আড়ালে কলকাতা হাইকোর্টে এসে মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনা নিয়ে এদিন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের খোঁচা, ‘এখনও ভাবের ঘোরে রয়েছেন উনি।’
অন্যদিকে নন্দীগ্রামে ২০২১ সালে যখন তিনি পরাজিত হয়েছিলেন তখনও তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। সে মামলা এখনও বিচারাধীন। এবার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে মামলা করলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ, রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন, আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দোলা সেন। আদালত সূত্রে খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলেই ইলেকশন পিটিশন দাখিল করেছেন।
এছাড়া ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে পরাজিত হওয়ার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার আদালতের দুযারে কড়া নাড়লেন। এই ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রীর খোঁচা, ‘১৫ হাজার ভোটের হারার পরও এখনও উনি জিতে আছেন মনে করছেন। ভাবের ঘোরে রয়েছেন উনি। নিজের পার্টি অফিস চলে গেল, নিজের পার্টির সাংসদরা চলে গেল। উনি ভবানীপুর ভুলতে পারছেন না। এখনও নির্বাচন লড়ছি, এই ভাব করে ২-৩ বছর কেটে যাবে।’ দিলীপের খোঁচা নিয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এখন তৃণমূল কংগ্রেসের একঝাঁক বিধায়ক নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে বিধানসভায় জায়গা করে নিয়েছেন। বিদ্রোহী সাংসদরা এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। তিনজন রাজ্যসভার সাংসদ পদত্যাগ করেছেন। এই আবহে তৃণমূল কংগ্রেস রাজনীতির ময়দানে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।