• কেন এনসিপিআই গড়েছিলেন? সামনে আনলেন শিউলি, ‘ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট’কে নিরাপত্তা বাহিনীর
    প্রতিদিন | ১৭ জুন ২০২৬
  • হাওড়ায় তাঁর হাত দিয়ে গড়ে ওঠা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআইতে (NCPI) আগামিদিনে কোনও বড় পদে তিনি যাবেন কি না কিংবা এ ব্যাপারে দলে সদ্য যোগ দেওয়া পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন কি না অথবা দলের ত্রিপুরার নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলবেন কি না সে ব্যাপারে মঙ্গলবার মুখ খুললেন শিউলি কুণ্ডু। এদিন সাঁকরাইলের বাণীপুর হাটগাছা গ্রামের বাড়িতে বসে শিউলি জানালেন, এখনই তিনি এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। তাঁর তৈরি দলে নিজের অবস্থান কী হবে ভবিষ্যতে সে ব্যাপারে এখনই কোনও পরিকল্পনা নেই। ২০২৩-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরই তিনি এনসিপিআই দলের প্রতিষ্ঠতা সভাপতি হিসাবে ইস্তফা দিয়েছেন। শিউলি স্পষ্ট বলেন, “আমি দলের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট ছিলাম। তার পর আমি ওই পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। আমি এই মুহূর্তে ওই দলের কেউ নই। তবে আমার হাতে তৈরি দল আগামিদিনে ভালো জায়গায় যাক সেটা আমি চাই।”

    এদিন শিউলি তাঁর বাড়িতে সাংবাদিকদের জানান, গরিব, অসহায়, বয়স্ক, মহিলাদের সাহায্য করার ভাবনা থেকেই ২০২২ সালে এনসিপিআই তৈরি হয়। তাঁর কথায়, “আমরা এমন একটা আর্থিক ব্যবস্থা তৈরি করতে চেয়েছিলাম এই দলের মাধ্যমে যাতে কিছু গরিব মানুষের রোজগার হয়। এজন্য আমরা গরিব মানুষকে রেশন দিয়েছি, গরিব মহিলাদের শাড়ি দিয়েছি। দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতেই আমরা সংগঠন করে এই এনসিপিআই তৈরি করেছিলাম রাজ্যে।” তবে বর্তমানে দলে তিনি সক্রিয় না থাকলেও তাঁর দল আগামিদিনে সক্রিয়ভাবে আরও ভালো কাজ করবে এ ব্যাপারে আশাবাদী শিউলি। শিউলির কথায়, এতজন সাংসদ এনসিপিআইতে যোগ দিয়েছেন, এটা অনেক বড় কথা। এর ফলে বহু মানুষ উপকার পাবেন। মানুষের উপকার করার যে স্বপ্ন নিয়ে দল তৈরি হয়েছিল সেই স্বপ্ন একদিন পূরণ হবে।

    এই প্রসঙ্গে শিউলি বলেন, “ছোটবেলার রিলে খেলার মতো যে কারও হাতে লাঠিটা গেলেই হবে। লাঠিটা সুরক্ষিত থাকা নিয়ে কথা। তাই আমি চাই আমার হাতে দল না থাকলেও যার কাছেই দল থাকুক না কেন দলটা আরও বড় ও ভালো হলেই হবে। আমাদের স্বপ্নের গন্তব্যে পৌঁছনো যাবে। দল তৈরির সময় যে স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম।” তাঁর বক্তব্য, কোনও ব্যক্তি চলে গেলেও দল ঠিক তার জায়গায় চিরকাল থাকে। কোনও এক বা দু-জন ব্যক্তির উপর দল চলে না। এনজিও তৈরি করে সামাজিক কাজ করতে করতেই এনসিপিআই তৈরি করেছিলেন উত্তীয় কুণ্ডু ও তাঁর স্ত্রী শিউলি। দলের নেতৃত্ব অন্য কেউ দিলেও আগামিদিনে সেই সামাজিক সংগঠন ও মহিলা সংগঠন থাকবে বলে স্পষ্ট জানান শিউলি।

    এদিকে সাঁকরাইলের হাটগাছা গ্রামে উত্তীয় কুণ্ডু ও শিউলি কুণ্ডুর বাড়িতে এনসিপিআইয়ের দলীয় কার্যালয় আছে, বিষয়টি জানাজানি হতেই সোমবার সকাল থেকেই ওই বাড়িটি দেখতে এলাকার লোক, স্থানীয় নেতৃত্ব থেকে সংবাদমাধ্যম প্রচুর লোকের ভিড় বেড়ে যায় ওই বাড়ির সামনে। সোমবার দিনভর ওই বাড়িতে উত্তীয় ও শিউলি না থাকলেও তাঁদের মেয়ে দীপান্বিতা ছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে বাড়িতে ছিলেন শিউলি। তবে সোমবার থেকেই শোনা যাচ্ছিল শিউলির স্বামী উত্তীয় বাড়িতে নেই। তিনি বাইরে রয়েছেন। তাঁকে ফোনেও যোগাযোগ করা যায়নি। কোথায় গিয়েছেন উত্তীয় তা সঠিকভাবে জানা যাচ্ছে না। হাওড়া সিটি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ির সামনে প্রচুর লোকের ভিড় হওয়ায় শিউলি কুণ্ডু ও তাঁর পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে তাঁদের বাড়ির সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের আপাতত মোতায়েন করা হয়েছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)