মাথার দাম ছিল ১০ লাখ, লালবাজারে আগ্নেয়াস্ত্র-সহ আত্মসমর্পণ ঝাড়গ্রামের মাও নেত্রী পুষ্পার
প্রতিদিন | ১৭ জুন ২০২৬
যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে ঝাড়খণ্ডের সারান্ডা থেকে পালিয়েছিলেন মাওবাদী নেত্রী শকুন্তলা মাহাতো ওরফে পুষ্পা। বঙ্গে তাঁর আত্মগোপন নিয়ে চর্চার মাঝেই বুধবার সকালে লালবাজারে গিয়ে আত্মসমর্পণ করলেন মাও বঙ্গ ব্রিগেডের সদস্য, সিপিআই (মাওবাদী)-র জোনাল কমিটির এই সদস্য। তাঁর মাথার দাম ছিল ১০ লক্ষ টাকা। এহেন শীর্ষ মাওবাদী নেত্রীর আত্মসমর্পণ (Maoist Leader Surrender) যে কলকাতা পুলিশের বড় সাফল্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে ৪৬ রাউন্ড গুলি ও আগ্নেয়াস্ত্র-সহ কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন একদা সারান্ডার জঙ্গলের ত্রাস। একাধিক মাও অভিযানের মাস্টারমাইন্ড এই নেত্রী। আত্মসমর্পণের সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের যারা এখনও বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছেন তাঁরা চেষ্টা করুন মূল স্রোতে ফিরে আসার। বর্তমান সরকার অনেক ভালো কাজ করছে। অস্ত্র ছেড়ে উন্নয়নে শামিল হওয়াই সকলের জন্য মঙ্গলের।’
ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি থানার মেছুয়া গ্রামের মেয়ে শকুন্তলা। মাওবাদী স্কোয়াডে পা রাখার পর পরি, বর্ষা, পুষ্পা-র মতো একাধিক নামে পরিচিত হন তিনি। মাও স্কোয়াডে চার-চারটি নাম নিয়ে কাজ করলেও বাড়ির কাছে তিনি ‘লুটুন’। তিনি যে আত্মসমর্পণ করতে পারেন তা নিয়ে চর্চা চলছিল। মাত্র ১০ বছর বয়সে মাওবাদী শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন লুটুন। পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হলেও হাই স্কুলে পা রাখেননি তিনি। নকশাল সংগঠনে গান-বাজনা করতে করতেই হাতে তুলে নিয়েছিল বন্দুক। বিভোর হয়ে যান সমাজ বদলানোর স্বপ্নে। তখন বাম আমলে শকুন্তলাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল পুলিশ। তাই বনপার্টিরা তাঁকে বর্তমান ঝাড়খণ্ডের পরেশনাথ পাহাড়ে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু সংগঠনের কাজে আবার তাঁকে বাংলায় নিয়ে আসে।
২০০৩ সালে এই ঝাড়গ্রামে স্কোয়াডে থাকাকালীন এরিয়া কমান্ডার অতুল মাহাতোর সঙ্গে আলাপ হয়। ২০০৪-এ এমসিসি ও জনযুদ্ধ গোষ্ঠী মিলে গঠিত হয় সিপিআই (মাওবাদী)। ২০০৫-এ ঝাড়খণ্ডের তামাড় জঙ্গলে অতুলের সঙ্গে কমরেড ম্যারেজ হয় শকুন্তলার। তারপর সাংগঠনিক কাজে সিপিআই (মাওবাদী)-র ইস্টার্ন রিজওনাল ব্যুরো-র ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি, ঝাড়খণ্ডের দলমা, ঘাটশিলা, গোটাশিলা, পারশনাথ পাহাড়, বুণ্ডু-তামাড়, সারান্ডা-সহ কোথায় না পাঠানো হয় এই মাও নেত্রীকে। বাম আমলে এই জঙ্গলমহলে লালগড় আন্দোলনে কিষাণজির সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি! কাজ করেন কিষাণদার সঙ্গেও। ২০১২ সালের পর সিপিআই (মাওবাদী)-দের বঙ্গ ব্রিগেড ঝাড়খণ্ডে গা ঢাকা দেয়। কিন্তু সেখানেও কোণঠাসা হয়ে যান তাঁরা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তরফে মাওবাদীমুক্ত ভারতের টার্গেট মেনে বড় পরিসরে শুরু হয় অভিযান। একের পর এক মাওবাদী নেতা-নেত্রী গ্রেফতার, যৌথ বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু, আত্মসমর্পণের পর অবশেষে হিংসার রাস্তা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেন জঙ্গল দাপিয়ে বেড়ানো শকুন্তলা।