• যুবভারতী কাণ্ডে অরূপকেই দায়ী করল মেসির টিম, আর্জেন্টিনা থেকে চিঠি কলকাতা পুলিশকে 
    প্রতিদিন | ১৭ জুন ২০২৬
  • গত ডিসেম্বর থেকে মেসি কাণ্ডে উত্তাল বাংলা। ঘটনার তদন্তে এই মুহূর্তে অ্যাকশন মোডে পুলিশ। এই আবহে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে চিঠি মেসির নিজস্ব ম্যানেজমেন্ট টিমের। যুবভারতীতে নিরাপত্তার অভাব নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মেসির টিম।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, স্টেডিয়ামে মেসির উপস্থিতির সময় আগে থেকেই একটি নিয়ম ছিল। সেই নিয়ম অনুযায়ী মাঠের ভেতরে কোনও ভিআইপি বা বিশেষ অতিথি থাকতে পারবেন না। কেবল তিনজন ক্যামেরা অপারেটরের থাকার অনুমতি ছিল। অভিযোগ, সেই নিয়ম ভেঙে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মাঠে ঢুকে পড়েন। তিনি এমন কিছু কাজ করেন, যা নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ ছিল না। অভিযোগ, ছবি তোলার সময় তিনি বারবার মেসির খুব কাছে যাওয়ার এবং তাঁর সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় শারীরিক যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। এর মধ্যে মেসির কাঁধ ও কোমরে হাত রাখার ঘটনাও ছিল।

    কেবল তাই নয়, মাঠের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও মেসির টিম তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। চিঠিতে লেখা হয়েছে, সংরক্ষিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া অনেক মানুষ ঢুকে পড়েছিলেন। এমনকী প্রায় ৪০ জন ফটোগ্রাফার ও ক্যামেরা অপারেটরও সেখানে উপস্থিত ছিলেন, যাঁদের অনুমোদন ছিল না। এর ফলে মাঠে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে। এতে মেসির নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও ব্যক্তিগত পরিসর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই কারণেই পরিকল্পিত কিছু অনুষ্ঠান বাতিল করে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মাঠ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন তাঁরা।

    এই প্রসঙ্গে ‘সংবাদ প্রতিদিন’-কে মেসির ভারত সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত বলেন, “মেসির ট্যুরের কনসালট্যান্ট ও অ্যাডভাইজার বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারকে একটি ইমেল করেছেন। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মেসির সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় শারীরিক সংযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন। এছাড়াও, বহু অননুমোদিত ব্যক্তি মাঠে প্রবেশ করেছিলেন। সেই কারণেই কিছু অনুষ্ঠান বাতিল করে নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন তাঁরা। ইমেলে এ-ও বলা হয়েছে, এই ঘটনার জন্য আমি কোনওভাবেই দায়ী নই। এবার সত্যিটা সকলের সামনে আসবে। যিনি চিঠিটি লিখেছেন, তিনি শুধু অ্যাডভাইজার নন, সেদিন মাঠেও উপস্থিত ছিলেন। আমাকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তখনও এই বিষয়গুলো বারবার বলা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ নিজেদের এবং অরূপ বিশ্বাসকে বাঁচানোর জন্য সেগুলোকে গ্রাহ্য করেনি। এর চেয়ে বড় প্রমাণ তো আর কিছু হতে পারে না।”

    উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছুঁয়েছেন লিওনেল মেসি। তারপরই সোশাল মিডিয়ায় অরূপকে খোঁচা মেসির ভারত সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের। তিনি লেখেন, ‘আপনার পাড়ার পল্টুদা হ্যাটট্রিক করেছে, এবার তো বেরিয়ে আসুন।’ তাঁর পোস্টে হাসির রোল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে চিঠি মেসির নিজস্ব ম্যানেজমেন্ট টিমের।
  • Link to this news (প্রতিদিন)