বিষ্ণুপুরে দাম্পত্য কলহের রক্তাক্ত পরিণতি, স্ত্রীকে কোপানোর পর নিজের গলায় ছুরি স্বামীর! কী কারণ?
News18 বাংলা | ১৭ জুন ২০২৬
বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে দাম্পত্য কলহের জেরে রক্তাক্ত হলেন স্বামী-স্ত্রী। গুরুতর জখম অবস্থায় বর্তমানে দুজনেই বিষ্ণুপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই এমন রক্তাক্ত ঘটনা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা টাউনের বাসিন্দা অভিজিৎ পাল এবং হুগলি জেলার মায়াপুরের বাসিন্দা পূজা মাঝি স্বামী-স্ত্রী। প্রায় তিন মাস আগে তাঁরা বিষ্ণুপুরের কুরচিবন এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। অভিজিৎ পাল বেঙ্গালুরুর একটি সোনার দোকানে কর্মরত ছিলেন।
জানা গিয়েছে, পূজা মাঝির সঙ্গে অন্য এক যুবকের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ। বিষয়টি জানতে পেরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই অশান্তি ও ঝামেলা লেগে থাকত। গত ১৫ জুন বেঙ্গালুরু থেকে বিষ্ণুপুরে ফিরে আসেন অভিজিৎ পাল। ওই দিনই তিনি বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়। পরে তাঁকে বিষ্ণুপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান।
বাড়ির মালিকের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিয়মিত অশান্তির কারণে তাঁদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছিল। শুক্রবার সকালে বাড়ির মালিক বাড়িতে না থাকার সুযোগে দুজনের মধ্যে ফের বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় অভিজিৎ পাল একটি ছুরি দিয়ে তাঁর স্ত্রী পূজা মাঝিকে এলোপাথাড়ি কোপ মারেন। গুরুতর জখম হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন পূজা।
এরপর অভিজিৎ পাল নিজের গলাতেও ছুরি চালান বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় তিনি একটি স্কুটি নিয়ে নিজেই বিষ্ণুপুর হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন। অন্যদিকে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। রক্তাক্ত অবস্থায় পূজা মাঝিকে উদ্ধার করে বিষ্ণুপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।