• ঐতিহ্য হারাচ্ছে জামাইষষ্ঠী, ইনভার্টার-ফ্যানের দাপটে কোণঠাসা সেই 'স্বর্গীয় বাতাস'
    News18 বাংলা | ১৭ জুন ২০২৬
  • জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষে এবং আষাঢ় মাসের শুরুর দিকে যখন তীব্র গরমে নাজেহাল অবস্থা তখন বাঙালির কাছের বন্ধু ছিল হাত পাখা। তবে বহু বছর আগে কথা নয় বেশ কয়েক বছর আগে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে গ্রামের বাড়ির উঠোনে অথবা শহরের এক চিলতে বারান্দায় হাত পাখায় ছিল একমাত্র ভরসা। সেই পাখার বাতাসে শুধু শরীর শান্ত হতো সেটা না, এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল মা-দিদাদের হাতের ছোঁয়া। আবার অনেক সময় ঠান্ডা বাতাস অনুভব করার জন্য ঠান্ডা জলে পাখাটিকে ভিজিয়ে হাওয়া করতেন মা-ঠাকুমারা।

    তবে বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে গ্রাম বাংলার হাত পাখার ঐতিহ্য। বর্তমান সময়ে লোডশেডিং এর অন্ধকারকে জয় করে এখন ইনভার্টার, রিচার্জেবল ফ্যান আরও কত কী রয়েছে। এক সময় বাংলার ঘরে ঘরে হাত পাখার কদর ছিল আলাদা। তালপাতা থেকে শুরু করে বাঁশের চাঁচাড়ি, এর পাশাপাশি কাপড়ের উপর রঙিন সুতোর বুনন দিয়ে তৈরি হাতপাখার কদরই ছিল আলাদা। চৈত্র সংক্রান্তির মেলা অথবা রথের মেলায় এই রঙিন পাখা কেনার ধুম পড়ে যেত।

    তবে সেইসব কুটির শিল্পর চাহিদা দিন দিন কমে যাওয়ার ফলে বংশানুক্রমিক পেশা ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির এই জয়জয়কার অস্বীকার করার উপায় নেই, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে চলাটাই স্বাভাবিক নিয়ম। তবে প্রশ্ন হচ্ছে এক জায়গায়, আধুনিকতার ছোঁয়ায় তাহলে কি গ্রাম বাংলার সেই পুরনো ঐতিহ্য হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে! আজ থেকে কয়েক বছর আগে সারা বছরের নিশ্চিত রোজকার আজ নিছক উৎসব অনুষ্ঠানের সাময়িক বিকিকিনিতে এসে আটকে গিয়েছে।

    হাত পাখা তৈরির সঙ্গে যুক্ত এক শিল্পী সুচিস্মিতা মাল জানান “এই বিলুপ্তি শুধুমাত্র একটি উপকরণের বিদায় না, এর সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প। আজ থেকে কয়েক বছর আগে পর্যন্ত আমরা বাজারে বাজারে গিয়ে হাত পাখা বিক্রি করে আসতাম। পারিশ্রমিক ও বেশ ভালই পাওয়া যেত। তবে বর্তমানে ব্যাটারি চালিত প্লাস্টিক পাখার ব্যবহার বেড়েছে ফলে আমাদের তৈরি পাখা আর তেমনভাবে কেউ ব্যবহার করতে চান না।”
  • Link to this news (News18 বাংলা)