বর্ষা এলেই ভারতের বেশিরভাগ জাতীয় উদ্যান ও টাইগার রিজ়ার্ভ পর্যটকদের জন্য সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর মূল কারণ হলো প্রজনন মৌসুমে বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে না হয় সেই ঝুঁকি এড়ানো। তবে সব জঙ্গলই বন্ধ থাকে এমন নয়। দেশের কয়েকটি জনপ্রিয় বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য ও টাইগার রিজ়ার্ভ বর্ষাকালেও নির্দিষ্ট পর্যটন ও বাফার জ়োনে সাফারির সুযোগ দিয়ে থাকে। বর্ষার সময় জঙ্গলের রূপও একেবারে আলাদা। চারপাশে ঘন সবুজে ঢাকা বন, জলভরা হ্রদ ও নদী, কম পর্যটকের ভিড় এবং শান্ত পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা এনে দেয়। এই বর্ষায় জঙ্গল সাফারি করতে চাইলে কোথায় যাবেন?
মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলায় অবস্থিত এই টাইগার রিজ়ার্ভ বর্ষাকালেও সাফারির অন্যতম সেরা গন্তব্য। জুলাই মাসে নাভেগাঁও, মোহারলি এবং কোলারা-সহ কয়েকটি পর্যটন জ়োন খোলা থাকে। এখানে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, চিতা, স্লথ বিয়ার, বন্য কুকুর এবং গাউর দেখা যায়। বৃষ্টির পর জঙ্গলের সবুজ সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়, যা বন্যপ্রাণী দেখার অভিজ্ঞতাকে বিশেষ করে তোলে।
রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের বিখ্যাত ‘দ্য জঙ্গল বুক’-এর অনুপ্রেরণা হিসেবে পরিচিত পেঞ্চ জাতীয় উদ্যান বর্ষায়ও নির্দিষ্ট বাফার জ়োনে সাফারি চালু রাখে। টুরিয়া ও খাওয়াসা জ়োন বিশেষ ভাবে জনপ্রিয়। এখানে বাঘ, চিতা, বুনো শূকর, সিভেট ক্যাট এবং সাম্বার হরিণ দেখা যায়। বর্ষার কুয়াশা ঢাকা বনভূমি ও সতেজ সবুজ প্রকৃতি ফটোগ্রাফারদের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে।
যাঁরা ভিড় এড়িয়ে নিরিবিলি জঙ্গলের অভিজ্ঞতা নিতে চান, তাঁদের জন্য সাতপুরা উপযুক্ত। বর্ষার সময় মাধাই বাফার জ়োন সাধারণত খোলা থাকে। এখানে স্লথ বিয়ার, কুমির, দৈত্যাকার কাঠবিড়ালি, হর্নবিল এবং ভাগ্য ভালো থাকলে বাঘও দেখা যেতে পারে।
ভারত-নেপাল সীমান্তের কাছে অবস্থিত দুধওয়া জাতীয় উদ্যানে বর্ষায় সীমিত পর্যটন কার্যক্রম চালু থাকে। বিশেষ করে কিষাণপুর বাফার অঞ্চলে সাফারির সুযোগ পাওয়া যায়। বাঘ, হাতি, বারাসিংহা এবং নানা প্রজাতির পাখির জন্য এই পার্ক বিশেষ ভাবে বিখ্যাত।
নীলগিরি বায়োস্ফিয়ার রিজ়ার্ভের অংশ এই অভয়ারণ্যে বর্ষাকালেও কাবিনি ও নাঞ্চি গেট সংলগ্ন কিছু এলাকা খোলা থাকে। এখানে হাতি, চিতা, বাঘ এবং বিরল ব্ল্যাক প্যান্থার দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্ষার সময় বনভূমি ও নদীর সৌন্দর্য এই পার্ককে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
জুলাই মাসে এসব জঙ্গলে ঘুরতে গেলে খরচ নির্ভর করে গন্তব্য, সাফারি জ়োন, থাকার ধরন এবং যাতায়াতের উপর। সাধারণ ভাবে ২-৩ দিনের একটি বাজেট ট্রিপে জনপ্রতি খরচ হতে পারে প্রায় ৮,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা। মাঝারি বাজেটের ভ্রমণকারীদের জন্য খরচ ১৮,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। অন্যদিকে বিলাসবহুল রিসর্ট ও ব্যক্তিগত সাফারি বেছে নিলে খরচ ৫০,০০০ টাকারও বেশি হতে পারে।
বর্ষাকালে পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় অনেক হোটেল ও রিসর্ট বিশেষ ছাড়ও দিয়ে থাকে। তাই প্রকৃতির সবুজ রূপের মধ্যে বন্যপ্রাণীর খোঁজে বেরোতে চাইলে জুলাই মাসের এই গন্তব্যগুলি হতে পারে আদর্শ পছন্দ।