ছত্তিসগড়ের বিজেপি নেতা ভারত সিং গহরওয়ার ওরফে লাল্লা সিংকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ। অভিযোগের তীর তাঁর বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর লোকজনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ছত্তিসগড়ের সোনহাত তহশিলের নওগাই এলাকার ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় লাল্লা সিংয়ের। এ ছাড়াও, গুরুতর জখম লাল্লা সিংয়ের সঙ্গে থাকা তিন কর্মী-সমর্থক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বৈকুণ্ঠপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে তাঁদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় অম্বিকাপুর এবং পরে রায়পুর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, বালির অবৈধ কারবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লাল্লা ও তাঁর বিরুদ্ধে গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ চলছিল। মঙ্গলবার দুপুরে নিহত বিজেপি নেতার পরিবারের এক সদস্য অন্য পক্ষের এক যুবককে মারধর করেন। এর পরেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। মঙ্গলবার রাতে ভারত সিং কয়েকজন সমর্থককে নিয়ে তিনটি গাড়ি করে অভিযুক্ত পক্ষের বাড়িতে যান। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে ফের বচসা বাধে। এর পরে বিজেপি নেতার গাড়িগুলি ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ। সেই সময়ে বিজেপি নেতার একটি গাড়ি পালিয়ে যায় ঘটনাস্থল থেকে। কিন্তু বাকি দুটি গাড়ি সেখান থেকে পালাতে পারেনি।
অভিযোগ, দুষ্কৃতীর দল বিজেপি নেতার গাড়িগুলিকে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে বলে। এর পরে গাড়ি দু'টির উপরে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত বিজেপি নেতার সমর্থকরা গাড়ির জানলা ভেঙে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। সেই সময়ে তাঁদের বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁদের শরীরের প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে।
মঙ্গলবার রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশের সরগুজা রেঞ্জের IG। ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ইতিমধ্যেই চারজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ ঘটনায় যথাযথ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মৃত ভারত সিং ওরফে লাল্লা সিং বৈকুণ্ঠপুর-সোনহাত এলাকার অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তিনি প্রাক্তন মন্ত্রী রামচন্দ্র সিংদেবের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। লাল্লা সিং পেশায় ঠিকাদার ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর ভাইপো একটি বালি খাদানের বরাত পেয়েছিলেন। সে নিয়েই এলাকার আর এক পক্ষের সঙ্গে বিবাদের সূত্রপাত হয়।