মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গের পরে এ বার উত্তরপ্রদেশেও ভাঙনের মুখে বিরোধী দল? উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ যাদবের দল সমাজবাদী পার্টি (সপা) ঘরেও ভাঙনের জল্পনা উস্কে দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী ওমপ্রকাশ রাজভর। তিনি দাবি করেছেন, যেমন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙছে, তেমনই ভবিষ্যতে সমাজবাদী পার্টিতেও বড় ভাঙন দেখা যেতে পারে। এরই পাল্টা জবাবে সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবের দাবি, ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে বিজেপি। তিনি বলেন, ‘যে ভয় পাবে সে পালাবে।’
বুধবার উত্তরপ্রদেশের পঞ্চায়েত রাজ এবং সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ওমপ্রকাশ রাজভরের এই দাবি প্রকাশ্যে আসার পরেই প্রত্যাশিত ভাবেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে সেখানকার রাজনীতিতে। দল ভাঙানোর খেলায় সপা-র রাজ্যসভা সাংসদ জড়িত বলে দাবি করেছেন রাজভর। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সমাজবাদী পার্টির ভিতরে অসন্তোষ বাড়ছে এবং কিছু নেতা অন্য দলে যোগদানের কথা ভাবছেন। এমনকী তিনি এও ইঙ্গিত করেন যে, কিছু সাংসদ-বিধায়ক কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে। তবে তিনি কোনও নির্দিষ্ট নেতার নাম নেননি। এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব। অসন্তোষের কথা উড়িয়ে তিনি দাবি করেছেন, তাঁর দলের মধ্যে ভাঙনের কোনও আশঙ্কা নেই।
অখিলেশ আরও অভিযোগ করেন যে, বিরোধী দলগুলিকে দুর্বল করার জন্য রাজনৈতিকভাবে দলভাঙার চেষ্টা নতুন কিছু নয়। তাঁর বক্তব্য, সমাজবাদী পার্টি সব রকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত এবং দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি মন্ত্রী রাজভরকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘রাম গোপাল একটি তালিকা তৈরি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাতে তুলে দিয়েছেন দেখছি। দল ভেঙে দিয়ে বিজেপি এ ভাবেই কাজ করে। অতীতেও তাঁরা আমাদের এমপি ও বিধায়কদের ভাঙিয়েছে। এই কাহিনী আর কতদিন চলবে?’ যদিও দল ভাঙার আশঙ্কাও ধরা পড়েছে তাঁর গলায়।
সপা সুপ্রিমো দল ভাঙার জল্পনা ওড়ালেও সব শেষে তিনি বলেন, ‘যারা ভয় পাবে তারা চলে যাবে। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে আমাদের সাহসী লোক দরকার।’ অর্থাৎ নৈতিক ভাবে দুর্বল জনপ্রতিনিধিরা বিজেপির টোপ গিলতেও পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ অখিলেশ যাদবের।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জোট, সাংগঠনিক শক্তি এবং ভোটব্যাঙ্কের সমীকরণ নিয়ে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সমাজবাদী পার্টি । সম্প্রতি অখিলেশ যাদব স্পষ্ট করেছেন যে তাঁর দল আগামী নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বজায় রেখেই লড়ার পরিকল্পনা করছে। তার মাঝে এই ভাঙনের জল্পনায় জোর শোরগোল উত্তরপ্রদেশে।