• ‘পরিণাম হবে মারাত্মক!’, ১টি মামলা থেকে কেন সরলেন পরপর ৪ বিচারক? আইনজীবীদের সুপ্রিম হুঁশিয়ারি
    এই সময় | ১৭ জুন ২০২৬
  • এক প্রাক্তন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকের বরখাস্তের মামলাকে কেন্দ্র করে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে নজিরবিহীন পরিস্থিতি। পর পর চার বিচারকের বেঞ্চ এই মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে (recusal)। ফলে শেষ পর্যন্ত এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বুধবার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা করা হলে অত্যন্ত মারাত্মক পরিণাম হবে।

    মামলাকারীর আইনজীবী অমরীশ কুমার জৈন আদালতে জানান, একে একে বিচারপতি লিসা গিল, বিচারপতি সঞ্জীব বেরি, বিচারপতি অশ্বিনী কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি দীপক সিবাল এই মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ভারতীয় বিচারব্যবস্থায় কোনও মামলার সঙ্গে কোনও বিচারকের স্বার্থের সংঘাত থাকলে বা পক্ষপাতিত্বের সম্ভাবনা থাকলে তিনি সেই মামলা শোনা থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। যাকে আইনি ভাষায় ‘রেকিউসাল’ বলা হয়।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই নির্দিষ্ট মামলায় কোনও স্বার্থের সংঘাত বা পক্ষপাতের বিষয় ছিল না। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, আইনজীবীদের একাংশই বিচারকদের উপরে ‘চাপ’ সৃষ্টি করছেন। আদালত কক্ষে সুকৌশলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। সেই কারণেই একের পর এক বিচারক এই সংবেদনশীল মামলা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন।

    প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘তিন-চারজন তথাকথিত ‘সিনিয়র আইনজীবী’ আদালত কক্ষে রীতিমতো তাণ্ডব চালাচ্ছেন এবং বিচারকদের উপরে চাপ তৈরি করছেন।’

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘আমি জানতে চাই ওই বিচারকরা কারা এবং কোন পরিস্থিতিতে তাঁরা সরে দাঁড়ালেন। আপনি (মামলাকারী আইনজীবী) কী ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, সেই বিষয়ে আমি তদন্ত করব।’

    তিনি নিজে পুরো বিষয়টির উপরে নজর রাখছেন এবং প্রয়োজনে এর নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সেই সঙ্গে, মামলাকারী আইনজীবী অমরীশ কুমার জৈনকে কোনও সিনিয়র কাউন্সেল ছাড়া নিজেই মামলাটি লড়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

    এই জটিল পরিস্থিতিতে মামলাটি অন্য রাজ্যে স্থানান্তরের আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট তা খারিজ করে দিয়েছে। পরিবর্তে, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে অবিলম্বে একটি দুই বিচারপতির নতুন ডিভিশন বেঞ্চ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৩ জুলাই থেকে প্রতিদিন এই মামলার শুনানি হবে।

    পাশাপাশি, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, মনোনীত বিচারকদের কোনও ভাবেই এই মামলা থেকে সরে না দাঁড়ানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছেন দেশের প্রধান বিচারপতি। রায় ঘোষণার পরে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)